ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে আবারও পরিবর্তন এসেছে। নতুন এমডি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুজ্জামান। মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে বদলিপূর্বক ঢাকা ওয়াসার এমডি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
মনিরুজ্জামান এর আগে স্থানীয় সরকার বিভাগে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর নতুন দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুই বছরের মধ্যে ঢাকা ওয়াসার এমডি পদে সপ্তম ব্যক্তি দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।
এদিকে বর্তমান এমডি মো. আমিনুল ইসলামকে জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক পদে বদলি করা হয়েছে। সচিব পদমর্যাদায় তাঁর চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
আমিনুল ইসলাম গত ১০ মার্চ এক বছরের চুক্তিতে ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। পরদিন তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সে হিসাবে মাত্র সাড়ে পাঁচ মাসের কম সময় দায়িত্ব পালনের পর তাঁকে অন্য প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হলো। তাঁর চুক্তির মেয়াদ আগামী বছরের মার্চে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকা ওয়াসার এমডি পদে ছিলেন তাকসিম এ খান। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় ১৫ বছর তিনি প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেন। সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট তিনি পদত্যাগ করেন।
তাকসিম এ খানের পদত্যাগের পরদিন ঢাকা ওয়াসার জ্যেষ্ঠতম উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম সহিদ উদ্দিন এমডির দায়িত্ব নেন। তবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে আদালতে মামলা হয়। ফলে তাঁর দায়িত্বকালও দীর্ঘ হয়নি।
এরপর ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুর রহমানকে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে ঢাকা ওয়াসার এমডির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
প্রায় আট মাস পর ২০২৫ সালের ১৮ মে ফজলুর রহমানের স্থলে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং তৎকালীন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়াকে ঢাকা ওয়াসার এমডির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সময়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দায়িত্বেও থাকায় তাঁকে নিয়ে তখন সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। পরে ওই বছরের ৩০ অক্টোবর তাঁকে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়।
এরপর ১১ নভেম্বর ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তা মো. আবদুস সালাম ব্যাপারীকে তিন বছরের জন্য এমডি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে তাঁর নিয়োগের যোগ্যতা ও বাছাইপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রায় চার মাস দায়িত্ব পালনের পর চলতি বছরের ৮ মার্চ তিনি পদত্যাগ করেন।
আবদুস সালামের পদত্যাগের পরদিন ৯ মার্চ স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মুহা. মনিরুজ্জামানকে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে ঢাকা ওয়াসার এমডির দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু এক দিনের মধ্যেই সেই ব্যবস্থার পরিবর্তন হয়। পরদিন সাবেক সচিব মো. আমিনুল ইসলামকে এক বছরের চুক্তিতে ঢাকা ওয়াসার এমডি নিয়োগ দেওয়া হয়।
এবার সেই আমিনুল ইসলামকেও সরিয়ে দিয়ে মনিরুজ্জামানকে পূর্ণাঙ্গ এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো। ফলে ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে মাত্র দুই বছরের মধ্যে ঢাকা ওয়াসার শীর্ষ পদে সাতজনের পরিবর্তন ঘটল।
এই সময়ে দায়িত্ব পালনকারীদের মধ্যে ছিলেন এ কে এম সহিদ উদ্দিন, মো. ফজলুর রহমান, মো. শাহজাহান মিয়া, মো. আবদুস সালাম ব্যাপারী, মুহা. মনিরুজ্জামান, মো. আমিনুল ইসলাম এবং নতুন নিয়োগ পাওয়া মো. মনিরুজ্জামান।
বারবার এমডি পরিবর্তনের ফলে ঢাকা ওয়াসার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রাজধানীর পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও বড় অবকাঠামো প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ পদে এত ঘন ঘন পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কতটা প্রভাব ফেলছে, সেটিও এখন আলোচনার বিষয়।![]()