পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেডের উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে থাকা ৩০ শতাংশ শেয়ার আকিজ রিসোর্সেস লিমিটেড, শেখ জসিম উদ্দিন ও ফারিয়া হোসেনের কাছে হস্তান্তরের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে থাকা ৩০ শতাংশ বা ৩ কোটি ৭ লাখ ৮০ হাজার শেয়ার ট্রেডিং সিস্টেমের বাইরে স্থানান্তর করা হবে। গত ২৭ আগস্ট এক চিঠির মাধ্যমে এ শেয়ার স্থানান্তরের অনুমোদন দেয় বিএসইসি।
এর আগে গত ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় আকিজ রিসোর্সেস লিমিটেড, শেখ জসিম উদ্দিন ও ফারিয়া হোসেনের অনুকূলে এসব শেয়ার স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় ডমিনেজ স্টিলের পর্ষদ।
এদিকে মালিকানা পরিবর্তনের অনুমোদনের মধ্যে কোম্পানিটির উৎপাদন কার্যক্রম ও শেয়ারদর নিয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছে। গত বছরের ৩ ও ৪ নভেম্বর ডমিনেজ স্টিলের কারখানার কার্যক্রম যাচাই করতে সাভারের আশুলিয়া ও নরসিংদীর পলাশে অবস্থিত দুটি ইউনিট পরিদর্শন করে ডিএসইর একটি দল। পরিদর্শনের সময় আশুলিয়া ইউনিট সচল থাকলেও পলাশ ইউনিটের কার্যক্রম বন্ধ পাওয়া যায়।
উৎপাদন কার্যক্রম আংশিক বন্ধ থাকার মধ্যেই গত এক বছরে ডমিনেজ স্টিলের শেয়ারদর ও লেনদেনে বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে। এ বিষয়ে ডিএসইর পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে কোম্পানিটি জানিয়েছে, শেয়ারদর ও লেনদেন বৃদ্ধির পেছনে কোনো মূল্যসংবেদনশীল তথ্য নেই।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত বছরের জুলাই থেকে ডমিনেজ স্টিলের শেয়ারদর ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। গত বছরের ১৫ জুলাই কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১০ টাকা ৬০ পয়সা। সর্বশেষ গতকাল লেনদেন শেষে তা দাঁড়িয়েছে ৬৩ টাকা ৪০ পয়সায়। অর্থাৎ প্রায় এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারটির দর বেড়েছে প্রায় ছয় গুণ।
অন্যদিকে কোম্পানির আর্থিক ফলাফলে সাম্প্রতিক সময়ে দুর্বলতার চিত্রও রয়েছে। ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে, অর্থাৎ জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত, ডমিনেজ স্টিলের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১৭ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১১ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৯৭ পয়সায়।
২০২৪-২৫ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক ছাড়া অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের জন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল ডমিনেজ স্টিলের পর্ষদ। ওই হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ পয়সা।
২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর দেশের পুঁজিবাজারে ডমিনেজ স্টিলের লেনদেন শুরু হয়। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১৫০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১০২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৭৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা। মোট শেয়ার রয়েছে ১০ কোটি ২৬ লাখ।
শেয়ারবাজারের তথ্য অনুযায়ী, ডমিনেজ স্টিলের ৩০ দশমিক ২০ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ১৫ দশমিক ৬০ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক শূন্য ২ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৫৪ দশমিক ১৮ শতাংশ শেয়ার।![]()