পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আরএকে সিরামিকস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের টাইলস উৎপাদন লাইন-৩-এর কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছে। এর আগে গত ২৬ জুলাই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রকাশিত তথ্যে লাইনটির উৎপাদন বন্ধ থাকার বিষয়টি জানানো হয়েছিল।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, আরএকে সিরামিকসের টাইলস কারখানায় মোট চারটি উৎপাদন লাইন রয়েছে। এর মধ্যে লাইন-২-এর যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গত ২৪ আগস্ট থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ চলাকালে লাইন-১ ও লাইন-৩-এ নিয়মিত উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এদিকে চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১৩ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে এ লোকসান ছিল ৬ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ৮৯ পয়সা।
২০২৫ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক ছাড়া সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে আরএকে সিরামিকস। ওই বছর কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৯৩ পয়সা, যা আগের বছরে ছিল ৬ পয়সা। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ১৫ টাকা ৩০ পয়সা।
এর আগে ২০২৪ হিসাব বছরেও বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। ওই বছর শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৬ পয়সা। এর আগের হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ৪৪ পয়সা। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ১৭ টাকা ২৩ পয়সা।
২০২৩ হিসাব বছরে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়। ওই বছর শেয়ারপ্রতি আয় হয় ১ টাকা ৪৪ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ১ টাকা ৫৭ পয়সা। ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ১৮ টাকা ২৯ পয়সা।
আরএকে সিরামিকসের সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘এএ মাইনাস’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-২’। ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ ঋণমান নির্ধারণ করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিস পিএলসি (সিআরআইএসএল)।
২০১০ সালে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আরএকে সিরামিকস মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক রাস-আল খাইমা গ্রুপের একটি যৌথ উদ্যোগ। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৬০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৪২৭ কোটি ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৭৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৪২ কোটি ৭৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭০১টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৭২ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ শেয়ার। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ শেয়ার।![]()