মেঘনা আলম
আমাদের পৃথিবীতে মহানবী (সাঃ) কেও অনেক কটূক্তি ও নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। এমনকি এই মহাবিশ্বের স্রষ্টাকেও মানুষ গালমন্দ করতে পিছপা হয় না। আমি তো সাধারণ মানুষ। তাও পিতৃতান্ত্রিক সমাজে, পুরুষশাসিত ব্যবস্থায় নারী, তথাকথিত সুন্দরী, তার ওপর অন্যায়ের প্রতিবাদ করি, ক্ষমতাকে প্রশ্রয় দিই না, বিতর্ক করি, সুন্দরী নারী হবে বুদ্ধিহীন! কিন্তু তার ওপর আবার আমি রাজনীতি শেখাই! হয় তুই সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা করবি, নাহলে বুদ্ধিবোধের প্রয়োগ করে সমাজসেবা করবি। আমার এত সাহস যে, আমি দুই ক্ষেত্রেই অবাধ বিচরণ করি!
হয় তুই ছোট কাপড় পরে পুরুষকে খুশি করবি, মদ-গাঁজা খেয়ে বেপরোয়া জীবনযাপন করবি, নাহলে একদম হুজুরনি হবি। আমি ছোট কাপড়ও পরি, আবার নিজেকে কারও কাছে সঁপেও দিইনি। আমি মাথায় কাপড় দিয়েও মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ ও অ্যাটেনশন পাচ্ছি।
আমি কোনো দিক থেকেই সমাজের গৎবাঁধা ফ্রেমে আবদ্ধ হচ্ছি না, তাই আমাকে নিয়ে সংশয় থাকাই সমীচীন। কিন্তু দয়া করে আমাকে কোনো নোংরা অপবাদ দেবেন না। আমার সান্নিধ্য আমার কাছে পবিত্র, আর এখন পর্যন্ত সেই দুর্লভ নৈকট্য পাওয়ার ভাগ্য কারওই হয়নি। আমার সৌন্দর্য, আমার নৈকট্য বিক্রি হয় না।
আমি এই সমাজে পুরুষের বরাবর, কখনো এক ধাপ আগেই আধিপত্য রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি, যোগ্যতার মূল্যায়নে আমাকে কোন ক্ষমতাশীলের অনুগত বা বাধ্য মনে করে, আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলে আমাকে ছোট করবেন না।
আমি একজন মানুষ, ভালো-মন্দ মিলিয়েই রক্ত-মাংসের মানুষ। খারাপ ও ভুল ধারণাগুলো শুনলে আমার কষ্ট হয়। নিজের অজান্তেই অভিশাপ চলে আসে। আমার সমালোচনা করুন, উপদেশ দিন, কিন্তু জোর করে ভুয়া মন্তব্য করবেন না।![]()