দীর্ঘ সময় ধরে নিম্নমুখী থাকার পর বিশ্ববাজারে কাঁচা বা সবুজ কফির রফতানিতে প্রবৃদ্ধি ফিরেছে। আন্তর্জাতিক কফি সংস্থার (আইসিও) সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে বিশ্বজুড়ে কাঁচা কফির রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে মোট রফতানি হয়েছে ১ কোটি ৪ লাখ ৮০ হাজার ব্যাগ কফি। প্রতিটি ব্যাগের ওজন ৬০ কেজি।
আইসিও গত ২৮ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অ্যারাবিকা জাতের কফির রফতানিতেও দীর্ঘ পতনের পর ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। টানা ১৫ মাস কমার পর জুনে প্রথমবারের মতো এ জাতের কফির রফতানি বেড়েছে।
অ্যারাবিকার বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে ব্রাজিল ন্যাচারালস ক্যাটাগরিতে। জুনে এ শ্রেণির কফি রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ২৭ লাখ ৬০ হাজার ব্যাগে পৌঁছেছে। একই সময়ে কলম্বিয়ান মাইল্ডস শ্রেণির অ্যারাবিকা কফি রফতানি বেড়েছে ১ দশমিক ২ শতাংশ। এ শ্রেণিতে রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৯০ হাজার ব্যাগ।
ব্রাজিল ন্যাচারালসের রফতানি বৃদ্ধিই জুনে অ্যারাবিকা কফির সামগ্রিক রফতানি প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। দীর্ঘদিন ধরে সরবরাহ ও উৎপাদনসংক্রান্ত নানা চাপের পর কফির বৈশ্বিক বাজারে এ পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্বের কফি বাণিজ্যে অ্যারাবিকা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাত। তুলনামূলক উন্নত স্বাদ ও গুণমানের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এ কফির চাহিদা বেশি। ফলে উৎপাদনকারী দেশগুলোর রফতানি পরিস্থিতির ওপর বৈশ্বিক বাজারের সরবরাহ ও দামের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কফির বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি, উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক চাহিদা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। এর মধ্যেই অ্যারাবিকা রফতানিতে প্রবৃদ্ধি ফেরায় বৈশ্বিক কফি বাণিজ্যে নতুন করে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
জুনের পরিসংখ্যান অবশ্য কেবল এক মাসের চিত্র তুলে ধরে। তাই এটিকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতার সূচনা হিসেবে দেখার আগে পরবর্তী মাসগুলোর রফতানি তথ্যও বিবেচনায় নিতে হবে। তবে টানা ১৫ মাস পতনের পর অ্যারাবিকা রফতানিতে প্রবৃদ্ধি ফেরাকে কফি উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবেই দেখছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।![]()