পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, দেশে জ্বালানি সংকট নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, দেশে তেল ও গ্যাসের সংকটের কথা বলা হলেও হাজার হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চ কীভাবে হচ্ছে।
শনিবার বিকেলে ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘একদিকে বলা হচ্ছে দেশে তেল ও গ্যাস নেই, অন্যদিকে ২ থেকে ৩ হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চ করা হচ্ছে। গাড়িগুলো কি পানিতে চলে, নাকি তেলে চলে? দেশে যদি তেলই না থাকে, তাহলে এত গাড়ি নিয়ে লংমার্চ কীভাবে হচ্ছে?’
তিনি বলেন, লংমার্চে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ব্যয় না করে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত সংসদে এসে নিজেদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরা। আলোচনা ও তর্ক-বিতর্কের মাধ্যমে জাতীয় সমস্যার সমাধান সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হলে বিএনপি সরকারের হাত ধরেই তা করা হবে।
দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতির জন্য বর্তমান সরকারকে দায়ী না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে জ্বালানি খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার যে প্রভাব তৈরি হয়েছে, তা এখনো মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও প্রয়োজনীয় উৎপাদন সক্ষমতা নিশ্চিত করা হয়নি। একই সঙ্গে দেশে থাকা গ্যাসের মজুত উত্তোলনেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
শামা ওবায়েদ বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রভাব অল্প সময়ে দূর করা সম্ভব নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার বিকল্প ও বহুমুখী উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করছে। প্রয়োজনে নতুন উৎস থেকেও জ্বালানি আমদানি করা হবে।
সারের সংকট নিয়েও তিনি অপপ্রচারের অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, দেশে সারের কোনো সংকট নেই। এ ধরনের প্রচারণার মাধ্যমে কৃষকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র ফিরে এলেও ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার এখনো অব্যাহত রয়েছে। দেশের সংকটকে রাজনৈতিক সংঘাতের দিকে না নিয়ে জনগণের সমস্যা ও দাবিগুলো সংসদে তুলে ধরে গঠনমূলক রাজনীতির চর্চা করা উচিত।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথমবার অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরবেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন বলেও জানান তিনি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নগরকান্দায় দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। সকালে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে র্যালিতে অংশ নেন। পরে এম এন একাডেমি স্কুল মাঠে বৃক্ষরোপণ এবং কুমার নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।
কর্মসূচিতে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার ফজলুল হক টুলু, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরিফ, আইনবিষয়ক সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট জুয়েল মুন্সি সুমন, কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা হাফিজ শরীফ এবং নগরকান্দা পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি তৈয়াবুর রহমানসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।![]()