জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের নতুন সভাপতি খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে বহুপক্ষীয় কূটনীতিতে হারিয়ে যাওয়া আস্থা পুনর্গঠন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর খলিলুর রহমানকে স্বাগত জানিয়ে গুতেরেস বলেন, বর্তমান বিশ্ব সংঘাত, ভূরাজনৈতিক বিভাজন, জলবায়ু সংকট ও বৈষম্যের মতো জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এ অবস্থায় কূটনীতি, সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বৈশ্বিক আস্থা ও সদিচ্ছা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গত মঙ্গলবার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে খলিলুর রহমান ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পেল, যা দেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর খলিলুর রহমান বলেন, বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রতি অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতেই বৈশ্বিক অগ্রগতি সম্ভব। যুদ্ধ, মানবিক সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে জাতিসংঘের প্রতি মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারই হবে তাঁর নেতৃত্বের প্রধান লক্ষ্য।
বিদায়ী সভাপতি আনালেনা বেয়ারবকের কাছ থেকে আইসল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী কাঠের হাতুড়ি গ্রহণের পর তিনি তাঁর এক বছরের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তাঁর প্রতিপাদ্য—‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: এমন একটি জাতিসংঘ, যা সবার জন্য কাজ করে।’
খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতা ১৯৪৫ সালের মতো নয়। তাই জাতিসংঘকেও ভবিষ্যতের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে নাগরিক সমাজের কণ্ঠস্বরকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।
মহাসচিব গুতেরেস বলেন, বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার ওপর আস্থা পুনর্গঠনই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁর মতে, বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানের জন্য নিরাপত্তা পরিষদ থেকে আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থা—সব প্রতিষ্ঠানকেই আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী হতে হবে।
এদিকে বিদায়ী সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক জাতিসংঘকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বা ‘ব্যর্থ’ বলে সমালোচনার জবাবে বলেন, সীমাবদ্ধতা থাকলেও বিশ্বের কোনো দেশ জাতিসংঘ ছাড়া আরও ভালো অবস্থায় থাকবে—এমন ধারণার ভিত্তি নেই। ইউনিসেফের শিক্ষা কার্যক্রম থেকে শুরু করে শান্তিরক্ষীদের উপস্থিতি পর্যন্ত জাতিসংঘের বিভিন্ন উদ্যোগ কোটি মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন এনেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।![]()