রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সভাপতি মো. আলী আফজালের পদ শূন্য ঘোষণা করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) প্রতিবেদনে তাঁকে ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে চিহ্নিত করার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুসারে সোমবার তাঁর পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি প্রতিবেদনে মো. আলী আফজালকে ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ কারণে বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২-এর ২৩(১)(খ) ধারা অনুযায়ী রিহ্যাবের সভাপতি হিসেবে তাঁর পদে থাকার যোগ্যতা নিয়ে আইনগত বাধা তৈরি হয়েছে। সেই ভিত্তিতেই সভাপতির পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।
রিহ্যাব দেশের আবাসন খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য সংগঠন। আবাসন ব্যবসায়ী ও ডেভেলপারদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় সরকারের কাছে তুলে ধরা, নীতিনির্ধারণী আলোচনায় অংশ নেওয়া এবং খাতটির ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে সংগঠনটির ভূমিকা রয়েছে। ফলে সংগঠনটির শীর্ষ পদে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত আবাসন ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্ব পেয়েছে।
আলী আফজালের পদ শূন্য ঘোষণার সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন রিহ্যাবের পরিচালনা পর্ষদ ঘিরে আরও কিছু অভিযোগ নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত চলমান রয়েছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিহ্যাবের সহসভাপতি মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাসসহ পরিচালনা পর্ষদের ১০ জন সদস্য গত ২৬ জুলাই বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালকের কাছে একটি আবেদন করেন। সেখানে সভাপতি ও সিনিয়র সহসভাপতির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মসহ ১২টি বিষয়ে অভিযোগ তোলা হয়। এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি।
তবে সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণা এবং পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে অভিযোগ—দুটি বিষয়কে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। পদ শূন্য ঘোষণার তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যে বিষয়টি উল্লেখ করেছে, তা হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি প্রতিবেদনে ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে আলী আফজালের নাম থাকা। অন্যদিকে পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া আলাদা।
রিহ্যাবের মতো একটি খাতভিত্তিক সংগঠনের নেতৃত্বে আর্থিক শৃঙ্খলা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আবাসন খাতে ব্যাংক ঋণ, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, গ্রাহকের অর্থ এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন বড় ভূমিকা রাখে। সংগঠনের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের আর্থিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হলে তা পুরো খাতের ভাবমূর্তিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে আবাসন খাত নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উচ্চ নির্মাণ ব্যয়, ঋণের সুদহার, জমির মূল্য এবং ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে নতুন আবাসন প্রকল্পের ব্যবসায়িক পরিবেশ কঠিন হয়েছে। এ অবস্থায় রিহ্যাবের নেতৃত্বে স্থিতিশীলতা এবং সরকারের সঙ্গে কার্যকর নীতিগত সমন্বয় খাতটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পর এখন সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্ব কে নেবেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রচলিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী পরবর্তী নেতৃত্ব নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগোবে। একই সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদ ও সংগঠনের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখাও প্রয়োজন হবে।
রিহ্যাবের নেতৃত্বে পরিবর্তনকে আবাসন খাতে জবাবদিহি ও আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদারের বৃহত্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে আলী আফজালের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।![]()