এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের রপ্তানি ধরে রাখতে নতুন বাজার অনুসন্ধান, পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনে অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, এশিয়া-প্যাসিফিক, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার মতো সম্ভাবনাময় বাজারে বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা গেলে বাণিজ্যনির্ভর প্রবৃদ্ধির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে চায়। এ জন্য ব্যবসা পরিচালনার জটিলতা কমানো, লজিস্টিক ব্যয় হ্রাস, বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানো এবং নতুন রপ্তানি বাজার তৈরির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যাগুলোর সমাধানে বাস্তবভিত্তিক সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজন রয়েছে।
এলডিসি থেকে উত্তরণের পর সম্ভাব্য বাজার সুবিধা হারানোর ঝুঁকি মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি করেছে দেশটি। দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গেও বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। citeturn0search0
সরকারের হিসাবে, বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশই তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। ফলে একটি খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি ও সফটওয়্যার, হালকা প্রকৌশল, হিমায়িত খাদ্য এবং প্লাস্টিকসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে রপ্তানিতে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। citeturn0search0
তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতেও উৎপাদন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, স্পোর্টসওয়্যার, মানবসৃষ্ট তন্তুভিত্তিক পোশাক, কারিগরি বস্ত্রসহ উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে টেকসই উৎপাদন, গবেষণা, উদ্ভাবন ও পণ্যের বৈচিত্র্যকে গুরুত্ব দিতে হবে।
নতুন বাজার তৈরির ক্ষেত্রে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বাজারেও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক উপস্থিতি বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ বাণিজ্য প্রতিনিধি দল পাঠানো, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ এবং সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালানোর মাধ্যমে এসব বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। citeturn0search0
ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের বিষয়টিও সরকারের বাণিজ্যনীতিতে গুরুত্ব পাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী লজিস্টিক ব্যয় কমানো, বন্দর ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানো এবং ব্যবসায়িক অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেন। citeturn0search5
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা বাড়াতে পুরনো সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করতে হবে। রপ্তানি বহুমুখীকরণ, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদে আরও প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্য অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে।
![]()