জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক এহসান মাহমুদ। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এহসান মাহমুদ-কে পরবর্তী ১ (এক) বছরের জন্য এই পদে নিয়োগ প্রদান করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় ঘটনা জুলাই গণঅভ্যুত্থান। এর গৌরবময় স্মৃতি সংরক্ষণ, সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা, জুলাই শহীদ ও যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই জাদুঘর। এসব কারণেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক। গণঅভ্যুত্থানের পর এই প্রতিষ্ঠান ঘিরে এদেশের মানুষের নতুন আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। গণতন্ত্র, সম অধিকার ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার যে শিক্ষা আমরা জুলাই থেকে পেয়েছি, তা সামনে রেখেই কাজ করতে চাই। আশা করি, সকলের সমবেত সংযোগ ও সক্রিয়তায় আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ, চর্চা ও গবেষণার পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরকে সাংস্কৃতিক বিদ্যাপিঠের জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপ দিতে সক্ষম হবো। সকলের সহযোগিতা কামনা করি।
এহসান মাহমুদের জন্ম মাদারীপুরে। পৈত্রিক নিবাস বরিশালের মুলাদীতে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় স্নাতক। পেশায় সাংবাদিক হিসেবে এহসান মাহমুদ কাজ করেছেন- দৈনিক সমকাল, দেশ রূপান্তর, ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা, মানবজমিন, নেত্র নিউজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সৃজনশীল সাহিত্যেও এহসান মাহমুদ প্রতিভার ছাপ রেখেছেন। তাঁর প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে উপন্যাস- একাত্তরের লালমিয়া, কোকিল অসময়ে ডাকিয়াছিল।
কবিতা- আদিবাসী প্রেমিকার মুখ। প্রবন্ধ ও রাজনীতি- স্বাধীনতা গণতন্ত্র মানবাধিকার: আওয়ামী লীগের শাসনামলে বাংলাদেশ ২০০৯-২০২৩; বিচার সংস্কার নির্বাচন: অন্তর্বর্তী আমলে বাংলাদেশ।
এহসান মাহমুদ বিগত আওয়ামী লীগের আমলে লেখালেখির কারণে চাকরিচ্যুতর শিকার হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের রোষানলে পড়েও ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। এছাড়া চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। একজন সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে গণতান্ত্রিক লড়াই-সংগ্রামে এহসান মাহমুদ সবসময় সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন।![]()