
বাংলাদেশের শিল্প মানচিত্রে বিএসআরএম (BSRM) কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের নাম নয়, এটি একটি ঐতিহ্যের প্রতীক। এই ঐতিহ্যের বর্তমান কাণ্ডারি আমের আলীহোসাইন কেবল একজন ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্ব নন, বরং তিনি আধুনিক শিল্প ব্যবস্থাপনার এক মূর্ত প্রতীক। কানাডার ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক এবং পাকিস্তানের লাহোর ইউনিভার্সিটি অফ ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস (LUMS) থেকে এমবিএ সম্পন্ন করা এই উদ্যোক্তা যখন ২০০১ সালে পারিবারিক ব্যবসায় যুক্ত হন, তখন থেকেই তাঁর লক্ষ্য ছিল বিএসআরএম-কে একটি বৈশ্বিক মানে উন্নীত করা। তাঁর নেতৃত্বের প্রতিটি পরতে রয়েছে আধুনিকায়ন, পরিবেশ সচেতনতা এবং দেশের অর্থনীতির প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা। তাঁর বিভিন্ন সাক্ষাৎকার, বক্তব্য এবং নীতিগত অবস্থানের আলোকে তাঁর দর্শন ও সমসাময়িক ভাবনা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার এক চিত্র তুলে ধরে।
আমের আলীহোসাইনের ব্যবসায়িক দর্শনের মূলে রয়েছে স্বচ্ছতা ও গুণগত মান। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি দেশের মেরুদণ্ড শক্ত করতে হলে তার অবকাঠামো হতে হবে মজবুত, আর সেই মজবুত অবকাঠামোর জন্য প্রয়োজন মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী। বিএসআরএম গ্রুপ যে কয়েক দশক ধরে বাজারে নিজেদের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে, তার পেছনে আমের আলীহোসাইনের দূরদর্শী পরিকল্পনা কাজ করেছে। তিনি নিয়মিতভাবে প্রযুক্তির আধুনিকায়নে বিনিয়োগ করে গেছেন, যাতে পরিবেশের ক্ষতি কমিয়ে সর্বোচ্চ মানের ইস্পাত উৎপাদন করা সম্ভব হয়। তাঁর মতে, শিল্পায়ন হতে হবে পরিবেশবান্ধব এবং দীর্ঘমেয়াদী। তিনি শুধু উৎপাদন বৃদ্ধির দিকে নজর দেন না বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার বিষয়টিকে সমান গুরুত্ব প্রদান করেন। “ইস্পাত শিল্পে মানের সাথে আপস করার অর্থ হলো জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে খেলা করা” এই মন্ত্রে তিনি বিএসআরএম পরিচালনা করছেন।
২০২৫ সালের কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আমের আলীহোসাইন অত্যন্ত বাস্তবসম্মত কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, ২০২৫ সাল ছিল বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এক অগ্নিপরীক্ষার বছর। মুদ্রাস্ফীতি, ডলার সংকট এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিরতা দেশের শিল্প খাতকে বেশ চাপে ফেলেছিল। এই স্থবিরতা কাটিয়ে ২০২৬ সালে একটি গতিশীল অর্থনীতির প্রত্যাশা করছেন তিনি। তাঁর চিন্তাভাবনার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা। তিনি মনে করেন, একটি টেকসই অর্থনীতি গঠনের জন্য দেশে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় থাকা অপরিহার্য। রাজনৈতিক অস্থিরতা বিনিয়োগের পরিবেশ নষ্ট করে, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই একটি নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা তাঁর অন্যতম প্রধান প্রত্যাশা। তিনি প্রায়ই বলেন, “স্থিতিশীলতা ছাড়া কোনো অর্থনীতি টেকসইভাবে এগোতে পারে না।”
আমের আলীহোসাইন মনে করেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরায় সচল করতে হলে সর্বস্তরে সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, সংস্কার হতে হবে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমুখী। কোনো একটি ব্যবস্থার পরিবর্তন করলেই হবে না, বরং সেই পরিবর্তনের ফলে সাধারণ মানুষ কতটা সুফল পাচ্ছে, সেটিই হবে সংস্কারের সাফল্যের মাপকাঠি। তাঁর মতে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন এবং নীতিমালার আধুনিকায়ন করা হলে ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ—সব ধরনের উদ্যোক্তারা সমানভাবে উপকৃত হবেন। সংস্কার প্রশ্নে তাঁর একটি শক্তিশালী মত হলো, “সংস্কারের মূল লক্ষ্য হতে হবে জনগণের সুফল নিশ্চিত করা। উদ্দেশ্য পরিষ্কার হলে বাস্তবায়ন অনেক সহজ হয়।” শিল্প খাতের জন্য তিনি তিনটি মৌলিক উপাদানের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন: গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং পানি। তাঁর মতে, এই তিনটির যেকোনো একটির সরবরাহ ব্যাহত হলে শিল্প উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়ে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে।
আমের আলীহোসাইনের একটি বড় অগ্রাধিকার, পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই উৎপাদন। তাঁর বিভিন্ন ইন্টারভিউতে তিনি বারবার ‘গ্রিন স্টিলমেকিং’ বা পরিবেশবান্ধব ইস্পাত উৎপাদনের কথা বলেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে শিল্পায়নকে পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর নির্দেশনায় বিএসআরএম তাদের কারখানায় আধুনিক ‘এয়ার পলিউশন কন্ট্রোল’ সিস্টেম এবং পানি পুনর্ব্যবহারযোগ্য করার প্রযুক্তি স্থাপন করেছে। তিনি মনে করেন, শিল্প খাতের স্থায়িত্ব নির্ভর করে আমরা কতটা কার্যকরভাবে প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় কমাতে পারছি তার ওপর। বিদ্যুৎ ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে কীভাবে একই পরিমাণ উৎপাদন নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে তিনি প্রতিনিয়ত গবেষণা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করছেন। তিনি মনে করেন, পরিবেশ রক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি টিকে থাকার অপরিহার্য শর্ত। তাঁর নেতৃত্বে বিএসআরএম প্রথম ‘কোয়ান্টাম আর্ক ফার্নেস’ প্রযুক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়, যা জ্বালানি সাশ্রয়ে বৈপ্লবিক।
আমের আলীহোসাইন বাংলাদেশের লজিস্টিকস এবং বন্দর অবকাঠামোর কার্যকারিতা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে সোচ্চার। তাঁর মতে, বাংলাদেশ যদি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে চায়, তবে লজিস্টিকস ব্যয় অন্তত ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমাতে হবে। তিনি বিভিন্ন সেমিনারে বলেছেন যে, চট্টগ্রাম বন্দরের ডেমারেজ চার্জ এবং ধীরগতির প্রক্রিয়া আমদানিকারকদের ওপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়, যা বৈদেশিক মুদ্রার সরাসরি অপচয়। পণ্য আমদানিতে টনপ্রতি ২০ থেকে ২৫ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ হওয়াকে তিনি জাতীয় লোকসান হিসেবে দেখেন। তিনি মনে করেন, ঢাকার সাথে চট্টগ্রামের উন্নত রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা গেলে এবং বন্দরের সক্ষমতা বিশ্বমানে উন্নীত করা গেলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “তাইওয়ানের মতো ছোট একটি দেশে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে ২ ঘণ্টার বেশি লাগে না, অথচ আমাদের দেশে ৫০০ কিলোমিটারের কম পথ পাড়ি দিতে এর চেয়ে অনেক বেশি সময় অপচয় হয়।”
ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আমের আলীহোসাইনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য গুণ হলো তাঁর মানবিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রযুক্তির চেয়েও বড় শক্তি হলো দক্ষ ও অনুপ্রাণিত কর্মীবাহিনী। করোনাকালীন সংকটে যখন অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করছিল, তখন আমের আলীহোসাইন দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেছিলেন যে, বিএসআরএম পরিবার তার একজন সদস্যকেও হারাবে না। তিনি কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য নিয়মিত বিনিয়োগ করেন এবং প্রতিষ্ঠানের ভেতরে একটি ‘লার্নিং কালচার’ তৈরি করেছেন। তাঁর মতে, লিডারশিপ বা নেতৃত্ব মানে কেবল নির্দেশ দেওয়া নয়, বরং পরবর্তী প্রজন্মের লিডার তৈরি করা। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন কর্মীকে দক্ষ করে তোলা মানে দেশের সম্পদ বৃদ্ধি করা। এটি তাঁর দীর্ঘদিনের প্রমাণিত ব্যবসায়িক নীতি।
শিল্পায়নের পাশাপাশি আমের আলীহোসাইনের চিন্তার একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের সুশাসন। তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়িক ফোরামে অত্যন্ত জোরালোভাবে ঋণের সুদের হার স্থিতিশীল রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদী শিল্প ঋণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তাঁর মতে, উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে ভারী শিল্প টেকসই করা অসম্ভব। তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে যদি শৃঙ্খলা ফিরে আসে এবং খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি বন্ধ হয়, তবে প্রকৃত উদ্যোক্তারা সহজে মূলধন পাবেন। তিনি মনে করেন, অর্থনীতিকে গতিশীল করতে হলে মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা দূর করা এবং ডলারের বিনিময় হারকে একটি যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি। ব্যবসায়ীদের জন্য নীতিমালার ধারাবাহিকতা থাকা জরুরি বলে তিনি মনে করেন, যাতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা সহজ হয়।
আমের আলীহোসাইনের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হলো বিএসআরএম-কে বিশ্ববাজারে একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। তিনি ইতিমধ্যেই কেনিয়াতে স্থানীয় অংশীদারদের সাথে নিয়ে বড় বিনিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশের বাজার এখন অনেক বড় এবং পরিপক্ক, তাই এখন সময় এসেছে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি সক্ষমতা প্রমাণ করার। তিনি মনে করেন, শিল্পায়ন ও রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হতে পারে, যদি সঠিক নীতি সহায়তা এবং অবকাঠামোগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায়। তিনি স্বপ্ন দেখেন এমন এক সময়ের, যখন বাংলাদেশের রড ও ইস্পাত বিশ্বের বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণে প্রধান উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
আমের আলীহোসাইন কেবল একজন ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্ব নন, বরং তিনি করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর কার্যক্রমকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন। তাঁর মতে, একটি ব্যবসা তখনই সার্থক হয় যখন তা সমাজের অবহেলিত মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিএসআরএম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা দিতে বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনা করছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় পানি সংকটের সমাধান এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য স্কুল পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর ব্যক্তিগত আগ্রহ ও তদারকি প্রশংসনীয়। তিনি মনে করেন, শিক্ষিত ও সুস্থ জাতিই একটি সমৃদ্ধ শিল্প অর্থনীতির চালিকাশক্তি হতে পারে। তাঁর এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বিএসআরএম গ্রুপকে সাধারণ মানুষের কাছে একটি আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছে।
ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত বিনয়ী আমের আলীহোসাইন বিশ্বাস করেন, ব্যবসায়িক সাফল্যের চেয়ে বড় হলো মানুষের বিশ্বাস অর্জন করা। তিনি প্রায়ই তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “শর্টকাট পথে সফলতা পাওয়ার চেষ্টা না করে সততা এবং পরিশ্রমের ওপর ভরসা রাখো।” তাঁর মতে, যেকোনো বড় কাজ করার জন্য ধৈর্য এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকা প্রয়োজন। তিনি নিজেকে কেবল একজন প্রশাসক হিসেবে দেখেন না, বরং একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেখেন যার প্রতিটি সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ে দেশের হাজার হাজার মানুষের জীবনে। এই দায়বদ্ধতার বোধই তাঁকে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন উদ্ভাবনের দিকে ধাবিত করে। এই পুরো প্রক্রিয়া এবং চিন্তাধারা বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় যে, তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত তথ্যনির্ভর এবং সুদূরপ্রসারী।
আমের আলীহোসাইন কেবল একজন সফল ব্যবসায়ী নন, তিনি একজন স্বপ্নদ্রষ্টা। তাঁর প্রতিটি প্রস্তাবনা ও চিন্তা বাংলাদেশের অর্থনীতির মৌলিক সমস্যাগুলোকে স্পর্শ করে। তিনি যে সংস্কার, নিরবচ্ছিন্ন সেবা এবং উন্নত লজিস্টিকসের কথা বলছেন, তা যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে ২০২৬ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতি কেবল ঘুরে দাঁড়াবে না, বরং তা অনন্য এক উচ্চতায় পৌঁছাবে। তাঁর নেতৃত্বের গুণাবলি এবং দেশপ্রেমই বিএসআরএম গ্রুপকে এবং পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের শিল্প খাতকে আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শক্তি জোগাচ্ছে। একটি গতিশীল, স্বচ্ছ ও উন্নত বাংলাদেশের যে স্বপ্ন তিনি দেখেন, তা বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং সাহসের প্রয়োজন। তাঁর সামগ্রিক জীবন ও ব্যবসায়িক চিন্তাভাবনা থেকে বোঝা যায়, তিনি এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন যেখানে শিল্পায়ন হবে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব এবং জনকল্যাণমুখী।