ইরানের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ আরও তীব্র করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর এসব কথা বলেন পুতিন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে পুতিন বলেন, কঠিন সময়ে তেহরানের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে মস্কো। প্রয়োজনীয় পণ্যও সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পুতিন বলেন, ‘এ কঠিন সময়ে আপনাদের যে সহায়তা প্রয়োজন, তা দেওয়ার চেষ্টা করছি আমরা। এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পণ্যও আমরা সরবরাহ করছি।’
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকেই তেহরানকে সমর্থন দিয়ে আসছে মস্কো। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য ইরানকে দেওয়ার পাশাপাশি ক্যাস্পিয়ান সাগর হয়ে ড্রোন তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে।
কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও পরস্পরের ওপর হামলা শুরু করেছে।![]()
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন পুতিন। তাঁর দাবি, ইউক্রেনের হামলায় গত ৪০ দিনে রাশিয়ার প্রায় ১০০টি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে রাশিয়ার ক্ষতি হয়েছে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১ শতাংশের সমান।
কয়েক মাস ধরে ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার, জাহাজ ও বিভিন্ন স্থাপনায় দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এতে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় পেট্রল সংকট দেখা দিয়েছে। পাল্টা হামলা জোরদার করেছে রাশিয়াও। ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ও কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে।
পুতিন বলেন, ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনার জন্য কিয়েভের পক্ষ থেকেই আবার অনুরোধ আসছে। তবে তাঁর ভাষায়, ‘সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আলোচনা হয় না।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও যোগাযোগের কথা জানিয়েছেন পুতিন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কাজ করতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলে জানান। তাঁদের ওপর ট্রাম্পের আস্থা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সম্প্রতি সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ মস্কো সফর করে রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে সমঝোতার আহ্বানও জানান তিনি। তবে পুতিন বলেন, দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে যোগাযোগ বর্তমানে কিছুটা স্থগিত রয়েছে।
ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি নিয়েও পুতিন ও কিয়েভের দাবিতে বড় পার্থক্য রয়েছে। পুতিন দাবি করেছেন, আগস্টে দোনেৎস্ক অঞ্চলের ২৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখলে নিয়েছে রুশ বাহিনী। তবে যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী ইউক্রেনীয় সংগঠন ডিপ স্টেটের হিসাবে, রাশিয়া সেখানে মাত্র ২৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করেছে।
পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা করতে গিয়ে পুতিন সোভিয়েত আমলের ‘সাম্রাজ্যবাদের হাঙর’ উপমা ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, কেউ যদি রাশিয়াকে খাদ্যশৃঙ্খলের নিচে নামিয়ে দিতে, গিলে ফেলতে বা গ্রাস করতে চায়, তাহলে তারা দাঁতভাঙা জবাব পাবে।
পুতিনের এই বক্তব্যে ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতেও রাশিয়ার অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। তেহরানের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধেও সামরিক চাপ বাড়ানোর বার্তা দিয়েছেন তিনি।![]()