রাজু আলীম
আলো জ্বালানোর প্রতিশ্রুতি নিয়েই যাত্রা শুরু করেছিল বিএনপি সরকার। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার নানা সংকট এবং একটি প্রত্যাশাময় নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে সরকার ঘোষণা করেছিল ১৮০ দিনের একটি অগ্রাধিকার কর্মসূচি। মানুষের প্রত্যাশাও ছিল আকাশছোঁয়া। কারণ, নতুন সরকারের কাছে শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার ধরনেও পরিবর্তনের প্রত্যাশা ছিল।
সরকারের প্রথম ছয় মাসে সেই প্রত্যাশার কিছু অংশ পূরণ হয়েছে, আবার বড় একটি অংশ এখনো অপূর্ণ। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ক্ষুদ্র কৃষিঋণ মওকুফ, খাদ্য মজুদ বাড়ানো, খাল পুনঃখনন, সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণ, ই-বেইল বন্ড, ক্রীড়া ও সবুজ কর্মসংস্থানসহ বেশ কিছু উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কিছু পুরোনো সুবিধা কমানো এবং সুশাসনের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা দেখা গেছে।
কিন্তু ছয় মাসের হিসাবের অন্য পাতায় রয়েছে মূল্যস্ফীতি, বাজারে অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যত অচলাবস্থা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, স্বাস্থ্য খাতের নানা ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক বিরোধ বাড়ার চিত্র। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে। ফলে সরকারের প্রথম ১৮০ দিনকে এককথায় সাফল্য বা ব্যর্থতার খাতায় ফেলা কঠিন। বরং বলা যায়, আলো-আঁধারির মধ্য দিয়েই এগিয়েছে সরকারের প্রথম ছয় মাস।
সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, জনগণ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের ওপর আস্থা রেখেছে। তাই যথাযথ সময়ে যথাযথভাবে সেই ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে হবে। সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই সরকার ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। কর্মসূচিতে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য কিছু উদ্যোগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের কথাও ছিল।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সরকারের প্রথম ছয় মাসকে সাধারণত ‘মধুচন্দ্রিমা’ সময় হিসেবে দেখা হয়। নতুন সরকার তখন নির্বাচনী ম্যান্ডেটের শক্তি কাজে লাগিয়ে প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে, নীতিগত সিদ্ধান্ত দ্রুত নিতে পারে এবং জনগণের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে। তারেক রহমানের সরকারও শুরুতে একাধিক দৃশ্যমান উদ্যোগ নিয়ে সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু ছয় মাস পার হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং কর্মসূচি ঘোষণা করার সঙ্গে সেগুলোর বাস্তব সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মধ্যে এখনও বড় ব্যবধান রয়েছে।
সরকারের কর্মকাণ্ড মূল্যায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও উদ্যোগ নিয়েছে। উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের সমন্বয়ে একটি কমিটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যালোচনা করছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড ও অগ্রগতি সূক্ষ্মভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নিজেই জনগণের সামনে সরকারের অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন।
সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের সবচেয়ে দৃশ্যমান উদ্যোগগুলোর একটি ফ্যামিলি কার্ড। সরকার গঠনের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ১০ মার্চ রাজধানীর কড়াইল বস্তি-সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠ থেকে দেশের ১৪টি স্থানে একযোগে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। নারীর ক্ষমতায়ন এবং নিম্ন আয়ের পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনার লক্ষ্যেই কর্মসূচিটি নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ১৩ জেলা ও তিনটি সিটি করপোরেশনের ৩৭ হাজার ৮১৪ নারীপ্রধান পরিবারকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। পরে এর আওতা ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডধারীর সংখ্যা ৪১ লাখে উন্নীত হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ, এটি শুধু একটি প্রতিশ্রুতির কর্মসূচি নয়; বড় আকারের সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
এর পাশাপাশি কৃষক কার্ডও সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম বড় বাস্তবায়ন। পহেলা বৈশাখে ১৪ এপ্রিল ১০ জেলার ১১টি উপজেলায় এর প্রি-পাইলট কর্মসূচি শুরু হয়। ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের হিসাবে একযোগে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাঠানো হয়। কৃষক কার্ডের মূল উদ্দেশ্য শুধু নগদ সহায়তা দেওয়া নয়। সরকারি সেবা, কৃষিঋণ, প্রণোদনা, ভর্তুকি, সেচ, কৃষিযন্ত্র ও অন্যান্য সহায়তা একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
জুলাই থেকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দেশব্যাপী কৃষক ও কৃষিজমির তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। প্রথম পর্যায়ে প্রতিটি উপজেলা থেকে একটি ব্লক নির্বাচন করে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। পরে পর্যায়ক্রমে পুরো দেশে তা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষক কার্ডধারীর সংখ্যা ৪৩ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ মওকুফ সরকারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। এর ফলে ১৪ লাখ ৩৪ হাজার কৃষক ঋণমুক্ত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের ক্ষুদ্র কৃষিঋণের বোঝা থেকে বিপুলসংখ্যক কৃষককে মুক্ত করার এই উদ্যোগ রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। একই সঙ্গে খাদ্যশস্যের মজুদ ২৪ লাখ টনের বেশি হয়েছে, যা সরকারের মূল্যায়নে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের মজুদের একটি।
সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও সরকারের কিছু কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ৬৭ লাখের বেশি অসহায় পরিবার প্রতিমাসে কেজিপ্রতি ৩০ টাকা দরে চাল পাচ্ছে। ওএমএস ও টিসিবির কার্যক্রমও চালু রয়েছে। তবে এসব কর্মসূচির ব্যাপ্তি বাড়লেও সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন, নিয়মিত সরবরাহ এবং দুর্নীতিমুক্ত বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ফলে সামাজিক নিরাপত্তার পরিমাণ যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয় এর সুশাসন।
কৃষির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত আরেকটি উদ্যোগ খাল পুনঃখনন। ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় জুনের মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখননের লক্ষ্য ছিল। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আরও ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন বা সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কৃষি, সেচ, জলাবদ্ধতা ও স্থানীয় পানি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে এই উদ্যোগকে যুক্ত করা হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল পেতে হলে খননকাজের মান, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
অর্থনীতির ক্ষেত্রে সরকারের প্রথম ছয় মাসের চিত্র মিশ্র। দায়িত্ব নেওয়ার সময় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ছিল বড় উদ্বেগের জায়গা। রিজার্ভে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি মোট রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে তা ছিল ২৯ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার। ২৮ জুলাই মোট রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলারে এবং বিপিএম-৬ হিসাবে ৩১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারে।
রাজস্ব আদায়েও প্রবৃদ্ধির তথ্য রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে রাজস্ব আদায়ে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু অর্থনীতির স্বাস্থ্য শুধু রিজার্ভ কিংবা রাজস্বের অঙ্ক দিয়ে বিচার করলে পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না। মানুষের প্রকৃত আয়, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, বেসরকারি বিনিয়োগ, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, খেলাপি ঋণ এবং ব্যবসার খরচ—সবকিছুর সম্মিলিত প্রভাবেই সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়।
সেখানেই সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি। দায়িত্ব নেওয়ার সময় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন পণ্যে শুল্ক কমানো হয়েছে, বাজার তদারকিতে টাস্কফোর্স মাঠে নামানো হয়েছে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু এসব উদ্যোগের দৃশ্যমান প্রভাব বাজারে খুব বেশি পড়েনি।
নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের কাছে বাজার পরিস্থিতি এখনও সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। টানা বৃষ্টি ও বন্যায় সবজির উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় অনেক সবজির দাম কেজিতে ৮০ থেকে ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। একপর্যায়ে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। মুরগি ও ডিমের বাজারেও অস্থিরতা রয়েছে। ব্রয়লার মুরগির দাম ২০০ থেকে ২১০ টাকা কেজি এবং ডিমের ডজন ১৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। মাছ ও মাংসের দামও বহু পরিবারের নাগালের বাইরে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন মনে করেন, বাজার মনিটরিং বাড়লেও তার সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না। তাঁর মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় বাজার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে এবং টিসিবির কার্যক্রমও ঢিলেঢালা হয়ে পড়েছে।
অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি কমার কোনো কোনো সূচক থাকলেও বাজারে মানুষের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। অর্থনীতির এই ‘দ্বৈত বাস্তবতা’ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পরিসংখ্যানের মূল্যস্ফীতি কমলেও যদি মানুষের খাদ্য, বাসাভাড়া, পরিবহন, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয় কমে না, তাহলে অর্থনৈতিক সাফল্যের বার্তা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না।
আইনশৃঙ্খলাও সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, পুলিশকে রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে দেখতে হবে। সরকারের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে বিভিন্ন অপরাধের পরিসংখ্যান এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের হিসাবে সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ২৯৪টি ছিনতাই, ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড, ১৯৬টি অপহরণ এবং নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার ৩ হাজার ৪৯৬টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। পরবর্তী ৮০ দিনেও অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। যদিও ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের জুলাইয়ে হত্যাকাণ্ড কমেছে বলে তথ্য রয়েছে, কিন্তু কিশোর গ্যাং, মাদক কারবার এবং চাঁদাবাজির মতো অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
দুর্নীতি দমন সরকারের আরেকটি বড় প্রতিশ্রুতি। নির্বাচনী অঙ্গীকারে সুশাসন, দুর্নীতি দমন ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। সংসদ সদস্যদের কিছু বিশেষ সুবিধা বাতিল, ভিআইপি প্রটোকল কমানো, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগ এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা জোরদারের মতো কিছু পদক্ষেপ ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
কিন্তু সবচেয়ে বড় দুর্বলতা তৈরি হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে। চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার ৩ মার্চ পদত্যাগ করার পর দীর্ঘ সময় নতুন কমিশন গঠন করা হয়নি। ফলে কমিশনের অনুসন্ধান, মামলা, চার্জশিট, সম্পদ জব্দ ও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। প্রতিদিন নতুন অভিযোগ এলেও কমিশনের অনুমোদন ছাড়া সেগুলো অনুসন্ধানে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুদকে প্রায় ১৫ হাজার অভিযোগ জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ভিআইপিদের বিরুদ্ধে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মামলা এবং প্রায় ৩০০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ জব্দের উদ্যোগের কথাও সামনে আসে। এমন সময়ে কমিশন অকার্যকর থাকা সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়েছে।
অবশেষে জুনে পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। জুলাইয়ে চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে তিনশর বেশি আবেদন জমা পড়ে। কিন্তু ছয় মাস শেষ হওয়ার সময়ও কমিশন গঠিত হয়নি। ফলে দুর্নীতিবিরোধী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে।
স্বাস্থ্য খাতেও একই সঙ্গে উদ্যোগ ও ব্যর্থতার চিত্র রয়েছে। সরকার এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যাদের অন্তত ৮০ শতাংশ নারী হওয়ার কথা। পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস কেন্দ্র স্থাপন এবং হাসপাতাল সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
কিন্তু একই সময়ে হামের প্রকোপে ৯০০-র বেশি শিশুর মৃত্যু স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। দ্রুত টিকার ব্যবস্থা করেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। ডেঙ্গুর প্রকোপও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ই-হেলথ কার্ড চালুর ঘোষণা থাকলেও ছয় মাসে তা কার্যকর রূপ পায়নি।
বিচারব্যবস্থায় ই-বেইল বন্ড একটি নতুন উদ্যোগ। জামিন প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল করার মাধ্যমে মানুষের হয়রানি ও সময় কমানোর লক্ষ্য নিয়ে কয়েকটি জেলায় এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর বিচারব্যবস্থার দিকে এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও এর সাফল্য নির্ভর করবে সারা দেশে দ্রুত সম্প্রসারণ এবং কারাগার, আদালত, পুলিশ ও আইনজীবী—সব পক্ষের সমন্বয়ের ওপর।
তরুণদের খেলাধুলায় যুক্ত করার উদ্যোগও সরকারের প্রথম ছয় মাসে আলোচনায় এসেছে। স্পোর্টস কার্ডের আওতায় ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার ও মার্শাল আর্টকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ৫৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্লাবে ক্রীড়া সরঞ্জাম দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৬৪ জেলায় ইনডোর সুবিধাসহ স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি প্রশিক্ষক, প্রতিযোগিতার সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্রীড়া উন্নয়ন কাঠামো তৈরি না হলে এসব উদ্যোগের সুফল সীমিত থাকবে।
ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবসহ ধর্মীয় নেতাদের জন্য আর্থিক সম্মানীর কর্মসূচিও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। একইভাবে সবুজ কর্মসংস্থানের আওতায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এপ্রিল মাসে সংসদে ১ কোটি ৫০ লাখ চারা উৎপাদনের কথা জানানো হয়। ১০ হাজার প্রশিক্ষিত যুবকের মধ্যে ৯ হাজার ৪৫০ জন ৯৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা ঋণ পেয়েছেন। উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপের জন্য ৫০০ কোটি টাকার দুটি পৃথক তহবিলও গঠন করা হয়েছে।
বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও সরকার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে দেশটির বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। আনোয়ারা ও মোংলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন, চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ অফিস স্থাপন এবং অগ্রাধিকার খাতে বিশেষ প্রণোদনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন বিনিয়োগ লাইসেন্স ১৫ দিনের মধ্যে দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঘোষণা আর বাস্তব বিনিয়োগের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা শুধু প্রণোদনা চান না; তারা চান নীতির ধারাবাহিকতা, দ্রুত অনুমোদন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের নিশ্চয়তা, জমি, করব্যবস্থার স্বচ্ছতা, ব্যাংকঋণের সহজলভ্যতা এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা। এসব জায়গায় কাঙ্ক্ষিত সংস্কার না হলে বিনিয়োগের বড় ঢেউ আসা কঠিন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সরকারের ছয় মাসের সবচেয়ে বড় অস্বস্তির জায়গাগুলোর একটি। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার প্রতিশ্রুতি থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি ব্যয় এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা মিলিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে।
জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যায়। টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার আগে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় ২ হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুট, বিপরীতে চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। পরে সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ২ হাজার ১৭০ মিলিয়ন ঘনফুটে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ কমে যাওয়ায় উৎপাদন স্বাভাবিক ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াটের জায়গা থেকে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে নেমে আসে। এতে ঘাটতি তৈরি হয় প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। শিল্পকারখানা, বাসাবাড়ি, সিএনজি স্টেশন, পরিবহন ও রান্নার জ্বালানি—সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়ে।
এখানে সরকারের জন্য মূল প্রশ্ন শুধু তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলা নয়; দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সেটিও। আমদানি-নির্ভরতা, গ্যাস অনুসন্ধানে ধীরগতি, বিদ্যুৎ খাতের ব্যয়বহুল চুক্তি এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা কাটাতে না পারলে সাময়িক সমাধান দিয়ে স্থায়ী স্বস্তি দেওয়া সম্ভব হবে না।
সরকারের প্রথম ছয় মাসের সবচেয়ে কঠিন রাজনৈতিক পরীক্ষা অবশ্য জুলাই জাতীয় সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সেটিই নতুন সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক অঙ্গীকার। কিন্তু বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।
সরকারের অবস্থান হলো, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন সংবিধান ও আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই করতে হবে। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর একটি বড় অংশ সনদে নির্ধারিত সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে। জুলাইয়ে জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি গঠন করা হলেও বিরোধী দলগুলো এতে অংশ না নিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে। এতে রাজনৈতিক দূরত্ব আরও বেড়েছে।
মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মিত্রদের বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হলেও বাস্তবায়নের কাঠামো নিয়ে মতভেদ রয়ে গেছে। ফলে সরকারকে এখন একই সঙ্গে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা, রাজনৈতিক ঐকমত্য এবং গণআন্দোলনের প্রত্যাশা—এই তিনটি বিষয় সামলাতে হচ্ছে।
ছয় মাসের এই হিসাব তাই একেবারে সাদা-কালো নয়। সরকার কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে কাঠামোগত উদ্যোগ নিয়েছে এবং কিছু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু করেছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচি যদি স্বচ্ছতার সঙ্গে সারা দেশে কার্যকর করা যায়, তবে এগুলো ভবিষ্যতে সরকারের বড় সামাজিক কর্মসূচিতে পরিণত হতে পারে। কৃষিঋণ মওকুফ, খাল পুনঃখনন, খাদ্য মজুদ, ক্রীড়া, সবুজ কর্মসংস্থান এবং ডিজিটাল বিচারব্যবস্থার উদ্যোগও ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
কিন্তু মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সম্পর্কিত তিনটি জায়গা—দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি—এখনও স্বস্তি দিতে পারেনি সরকার। দুর্নীতি দমন কমিশনের দীর্ঘ অচলাবস্থা সরকারের সুশাসনের প্রতিশ্রুতিকে দুর্বল করেছে। স্বাস্থ্য খাতে হাম ও ডেঙ্গুর মতো সংকটও দেখিয়েছে, শুধু নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করলেই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার ঘাটতি দূর হয় না।
সবচেয়ে বড় কথা, নির্বাচনের সময় জনগণ যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দিয়েছে, তার মূল্যায়ন হবে শুধু কতটি কর্মসূচি ঘোষণা হয়েছে তার ভিত্তিতে নয়। মানুষ দেখবে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কতটা কমেছে, চাকরির সুযোগ কতটা বেড়েছে, ঘুষ ও দুর্নীতি কতটা কমেছে, পুলিশ কতটা নিরপেক্ষ হয়েছে, হাসপাতাল কতটা কার্যকর হয়েছে, বিদ্যুৎ-গ্যাস কতটা নিরবচ্ছিন্ন হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা জবাবদিহির মধ্যে এসেছে।
সরকারের সামনে এখন আরেকটি বড় সুযোগও রয়েছে। প্রথম ছয় মাসে কোথায় ব্যর্থতা হয়েছে, কোথায় প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং কোথায় রাজনৈতিক ভুল হয়েছে—এসব শনাক্ত করে পরবর্তী সময়ের কর্মপরিকল্পনা সাজানো সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী নিজেই যখন ১৮০ দিনের মূল্যায়ন জনগণের সামনে তুলে ধরবেন, তখন কেবল অর্জনের তালিকা নয়, সীমাবদ্ধতার কথাও কতটা খোলামেলাভাবে বলা হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
কারণ সরকার পরিবর্তনের পর মানুষের প্রত্যাশা শুধু নতুন মুখ বা নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য নয়। প্রত্যাশা ছিল নতুন ধরনের রাষ্ট্র পরিচালনার। সেই প্রত্যাশার কেন্দ্রে ছিল জবাবদিহি, সুশাসন, অর্থনৈতিক স্বস্তি, নিরাপত্তা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন।
তারেক রহমান সরকারের প্রথম ছয় মাসে সেই পরিবর্তনের কিছু আলোর রেখা দেখা গেছে। কিন্তু আলো এখনও পুরো আকাশজুড়ে ছড়ায়নি। দ্রব্যমূল্যের চাপ, অপরাধ, দুর্নীতি দমন কমিশনের অচলাবস্থা, জ্বালানি সংকট এবং রাজনৈতিক মতবিরোধ সেই আলোর পাশে দীর্ঘ ছায়া তৈরি করেছে।
ফলে সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের সবচেয়ে নির্ভুল মূল্যায়ন হয়তো ‘সাফল্য’ কিংবা ‘ব্যর্থতা’ নয়—‘সম্ভাবনা ও সংকটের সন্ধিক্ষণ’। এখন দেখার বিষয়, সরকার পরবর্তী ছয় মাসে এই সম্ভাবনাকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দিতে পারে কি না। কারণ নির্বাচনের পর পাওয়া জনসমর্থন সময়ের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষয় হয়। তখন কর্মসূচির ঘোষণা নয়, মানুষের জীবনে তার দৃশ্যমান প্রভাবই হয়ে ওঠে সরকারের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পুঁজি।
প্রথম ছয় মাসে সরকার সেই পুঁজির কিছুটা অর্জন করেছে, আবার কিছুটা হারিয়েছেও। সামনে সময় আরও কঠিন। কারণ ‘মধুচন্দ্রিমা’ শেষ। এখন শুরু হবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কঠিন পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষায় সরকারের সাফল্য নির্ধারণ করবে—আলো আরও উজ্জ্বল হবে, নাকি ছয় মাসের এই আলো-আঁধারি আরও ঘনীভূত হবে।![]()