বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোটে জন্ম নেন আবুবকর হানিপ। শিক্ষাজীবন কেটেছে চট্টগ্রাম শহরে। চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে ইলেকট্রনিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে (ট্রিপল ই) স্নাতক ডিগ্রি লাভ করার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান তিনি। এরপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় আইটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান যেমন, আইবিএম, ওরাকল আইআরএস, আমেরিকান ডিফেন্স প্রভৃতির মত সুপ্রতিষ্ঠিত নামি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকরি করেছেন তিনি।
পরবর্তী সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াতে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির মতো স্বনামধন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তিনি এই বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পালন করছেন।
![]()
২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধুমাত্র পড়াশোনা করে উচ্চতর ডিগ্রি লাভের জন্য নয়, উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি সরাসরি বিভিন্ন কাজে পারদর্শী ও দক্ষ করে তোলার মাধ্যমে বড় বড় প্রতিষ্ঠানে সরাসরি উচ্চতর কিংবা মধ্যবর্তী পর্যায়ের পদে চাকরিতে যোগদানের জন্য উপযুক্ত করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
![]()
সম্প্রতি চ্যানেল আইয়ের জনপ্রিয় টকশো ইউসিবি টু দ্যা পয়েন্টে অতিথি হিসেবে অংশগ্রহন করেন তিনি। সেই সফল, মেধাবী, দেশপ্রেমিক মানুষ আবু বকর হানিপ রাজু আলীম এর পরিকল্পনা ও পরিচালনায় এই অনুষ্ঠানে দিপ্তী চৌধুরীর সাথে আলাপচারিতায় বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিকভাবে নানা সীমাবধদ্ধতা ও সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন।
![]()
আলোচনায় জনাব তারেক রহমানের “আই হ্যাভ এ প্ল্যান” এর বিষয়কে সাধুবাদ জানান তিনি। আবুবকর হানিপ মনে করেন তারেক রহমান দীর্ঘদিন দেশের বাইরের থাকার ফলে উন্নত বিশ্বের উন্নয়নের গতি ও কাঠামো প্রত্যক্ষ করেছেন। সেই অনুযায়ী তিনি বাংলাদেশকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে চান। আবুবকর হানিপের মতে উন্নয়নের পথে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে বেকার সমস্যা। তার মতে শিক্ষা ব্যাবস্থায় যেসব কারিকুলাম রয়েছে সেগুলো রিফর্ম করা উচিৎ। অনেক সময় দেখা যায় যে কোর্স কারিকুলাম গুলো আপডেটেড না। এমনটাও দেখা গিয়েছে যে ফ্যাকাল্টি মেম্বারেরা ইন্ডাস্ট্রির সাথে কানেক্টেড না। যেমন ঢাবি অথবা বুয়েট থেকে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হওয়া একজনকে আপনি ফ্যাকাল্টি মেম্বার হিসেবে নিলেন, কিন্তু তিনি তখন শিক্ষার্থীদের কি পড়াবেন? ঐ ব্যাক্তি নিজের অ্যাকাডেমিক আঙিনাতে যা শিখেছেন তাই পড়াবেন। তবে ইন্ডাস্ট্রি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে প্রয়োজন ইন্ডাস্ট্রিয়াল নলেজ।
স্কিলড্ পিপল ইমিগ্রেশন
প্রবাসী শ্রমজীবী বাংলাদেশীরা আমাদের দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাদের ব্যাপারে আবু বকর হানিপের চিন্তা এবং পরিকল্পনা আরো গভীর এবং সুসংগঠিত। তিনি মনে করেন আমরা যদি অদক্ষ জনশক্তির পরিবর্তে দক্ষ জনশক্তি পারি জনশক্তি রপ্তানি করতে পারি, তাহলে আমাদের রেমিটেন্সের পরিমাণ তিনগুণ বৃদ্ধি পাবে। প্রত্যেককে ব্যাচেলর্স কিংবা মাস্টার্স ডিগ্রী অথবা পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করার পাশাপাশি কারিগরি দক্ষতা অর্জনের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করার উপদেশ দেন তিন। তিনি পিপল এন্ড টেক নামক একটি ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরির কাজ করে আসছেন প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর দৌরাত্ব বৃদ্ধির কারণে শুধুমাত্র প্রাথমিক পর্যায়ের দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্য থেকে বেরিয়ে আরো ভিন্ন ধারার স্কিল ডেভেলপমেন্টে মনোযোগ দিতে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। “ট্রেইন দ্য ট্রেইনার” ফর্মুলায় কাজ করলে ফ্যাকাল্টি মেম্বাররা আরো আপগ্রেড হবে, এই বিশ্বাস তার।
![]()
প্রবাসীর ভোটাধিকার
বাংলাদেশের রাজনীতি প্রবাসী বাংলাদেশীদের কিভাবে প্রভাবিত করে এই ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন ” প্রবাসী বলেই দেশের প্রতি টান শেষ হয়ে যাবে বা কোন দায়বদ্ধতা থাকবে না বিষয়টা আসলে এরকম না। আমরা প্রবাসীরা মাতৃভূমি থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন না রেখে পৃথিবীর যেকোনো জায়গা থেকেই দেশের জন্য কন্ট্রিবিউট করতে পারি। দেশের ভালো পরিস্থিতি আমাদেরকে আপ্লুত এবং খারাপ পরিস্থিতি আমাদেরকে ব্যথিত করে। তাই প্রবাসীরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে বিষয়টি খুবই আনন্দের। আমরা এই দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড অবদান রাখার ফলে দেখা যাবে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম বাংলাদেশ সম্পর্কে আগ্রহী এবং দায়িত্বপূর্ণ আচরণ করবে। অন্যথায় পরবর্তী প্রজন্ম এই দেশ থেকে হারিয়ে যাবে। তাই বাংলাদেশী প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”
![]()
বিজনেস আইকন আবু বকর হানিপ দিনশেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একজন সফল উদ্যোক্তা। কর্মমুখী উচ্চতর শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার বাংলাদেশীকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে সম্মানজনক পদে চাকরি লাভে যোগ্য এবং উপযোগী করে তোলার ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় অবদান রেখে চলেছেন।