এক মাসে প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম
আন্তর্জাতিক বাজারে সাম্প্রতিক কয়েক দিনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে কিছুটা সংশোধন এলেও সার্বিকভাবে চলতি মাসজুড়ে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাই বজায় রয়েছে। মাসিক হিসাবে বিশ্বের দুই প্রধান বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)—উভয়ের দামই প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ মূল্যস্ফীতির আশঙ্কাকে এ উত্থানের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
সর্বশেষ লেনদেনে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমে ৮৭ দশমিক ৬৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৭ ডলারে নেমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে আগের তুলনায় বেশি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের খবর প্রকাশ পাওয়ার পর বাজারে এ সাময়িক মূল্য সংশোধন দেখা গেছে।
তবে বাজারের সামগ্রিক চিত্র এখনো অস্থির। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত হলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশা থাকায় দাম আরও দ্রুত বাড়ছে না। যদিও সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি। ফলে এ নৌপথে চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার যেকোনো ইতিবাচক খবর আন্তর্জাতিক তেলের ফিউচার বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলছে।
এদিকে কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। ফলে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত তেল সরবরাহের সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে লোহিত সাগর ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরব একটি আঞ্চলিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি পরিবহনে ঝুঁকি কমবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এখনো মূলত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, তেল সরবরাহের ধারাবাহিকতা, কৌশলগত মজুদের অবস্থা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির গতি—সবকিছু মিলিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহেও তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।