জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামির সবাই বর্তমানে পলাতক।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সপ্তম রায়। এর আগে একই ধরনের মামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ এই রায়ের মাধ্যমে দুটি ট্রাইব্যুনালের সাতটি রায়ে মোট ৬৮ জন সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত অভিযোগে বলা হয়, ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে তিনটি কাউন্টে আন্দোলন দমন, সহিংসতা উসকে দেওয়া এবং রাজনৈতিক নির্দেশনার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধে ভূমিকার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলন ও বৈঠকে আন্দোলন প্রতিরোধে দলীয় নেতা-কর্মীদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান এবং ‘শুট অ্যাট সাইট’ সম্পর্কিত বক্তব্যও অভিযোগের অংশ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত হয়।
একই মামলায় বাহাউদ্দিন নাছিমের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদারীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন দমনে প্ররোচনা ও তদারকির অভিযোগ আনা হয়। মোহাম্মদ আলী আরাফাতের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, গণমাধ্যমের সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশ এবং আন্দোলন দমনে ভূমিকার অভিযোগ তুলে ধরা হয়। অন্যদিকে শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান, সাদ্দাম হোসেন ও আসিফ ইনানের বিরুদ্ধে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র হামলা, নির্দেশনা ও সমন্বয়ের অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়।
ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত অভিযোগে আরও বলা হয়, জুলাই ও আগস্টজুড়ে দেশব্যাপী আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে এক হাজার ৪০০–এর বেশি নিরস্ত্র আন্দোলনকারী নিহত এবং ২৫ হাজারের বেশি মানুষ গুরুতর আহত হন। এসব ঘটনায় আসামিদের পরিকল্পনা, প্ররোচনা, নির্দেশনা ও নেতৃত্বের দায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাঁদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।![]()