বাংলাদেশ থেকে ওমানে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের পিটন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও ওমানের মডার্ন স্টার বিজনেসেস এলএলসি, যেটি স্টার ড্রোনস নামে পরিচিত, একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে। চুক্তির আওতায় বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল রপ্তানির পাশাপাশি প্রযুক্তি বিনিময় ও যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির কথা বলা হয়েছে।
সোমবার ঢাকার নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এর একটি অনুষ্ঠানে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক সই হয়। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের তৈরি বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলের জন্য ওমানের বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর সহযোগিতার পরিসরও বাড়তে পারে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পরিবহন খাতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ছে। জ্বালানি সাশ্রয়, পরিবেশগত প্রভাব কমানো এবং নগর পরিবহনে বিকল্প প্রযুক্তির চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ইভি খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য এ খাত শুধু অভ্যন্তরীণ বাজারের বিষয় নয়; রপ্তানি বাজারেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
পিটন ইন্ডাস্ট্রিজ ও স্টার ড্রোনসের সমঝোতার আরেকটি দিক হলো প্রযুক্তি বিনিময়। এর ফলে শুধু একটি নির্দিষ্ট পণ্য রপ্তানির সুযোগ নয়, বরং ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক যানবাহন, ডেলিভারি প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট উদ্ভাবনী কার্যক্রমে সহযোগিতার ক্ষেত্রও তৈরি হতে পারে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দুই পক্ষ সমন্বিত ড্রোন ডেলিভারি নেটওয়ার্ক এবং আধুনিক প্রযুক্তির দ্বিপক্ষীয় বিনিময় নিয়েও কৌশলগত অংশীদারত্বের কথা জানিয়েছে।
বাংলাদেশের শিল্প খাতে প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানো এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। তৈরি পোশাকের বাইরে নতুন শিল্পপণ্য রপ্তানির সক্ষমতা তৈরি হলে রপ্তানি ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি উচ্চমূল্যের পণ্য বাজারজাত করার সুযোগ তৈরি হবে। বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল সেই সম্ভাবনাময় পণ্যগুলোর একটি হতে পারে।
ওমান বাংলাদেশের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী বসবাস করেন। দুই দেশের দীর্ঘদিনের জনসম্পর্কের পাশাপাশি বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের সুযোগও রয়েছে। এমন একটি বাজারে বাংলাদেশি প্রযুক্তিপণ্য প্রবেশ করলে ভবিষ্যতে অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশেও রপ্তানি সম্প্রসারণের পথ খুলতে পারে।
তবে সমঝোতা স্মারক সই হওয়াকে সরাসরি বড় পরিমাণের রপ্তানি চুক্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর পরবর্তী ধাপে পণ্য অনুমোদন, বাজার যাচাই, উৎপাদন সক্ষমতা, সরবরাহব্যবস্থা এবং বাণিজ্যিক শর্ত নির্ধারণের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হবে। এসব প্রক্রিয়া সফলভাবে এগোতে পারলে উদ্যোগটি বাংলাদেশের ইভি শিল্পের জন্য একটি কার্যকর রপ্তানি ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশের শিল্পায়নের পরবর্তী পর্যায়ে প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদন বাড়ানো জরুরি। ওমানে ইভি বাইক রপ্তানির এই উদ্যোগ সেই পরিবর্তনের একটি সম্ভাবনাময় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।![]()