চার দশক পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। শপথ ও ঘোষণাপত্র পাঠ শেষে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে তিনি আগামী এক বছরের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিনিধিত্বশীল বহুপাক্ষিক ফোরামের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আয়োজন, বিতর্ক পরিচালনা এবং বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সমন্বয়ের দায়িত্ব থাকবে তার ওপর।
শপথের সময় খলিলুর রহমান ঘোষণা করেন, তিনি সম্পূর্ণ আনুগত্য, বিচক্ষণতা ও বিবেকবোধের সঙ্গে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সত্যনিষ্ঠভাবে পালন করবেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘের স্বার্থ সমুন্নত রেখে, সংস্থার সনদ এবং সাধারণ পরিষদের সভাপতির নৈতিক আচরণবিধি অনুসারে দায়িত্ব পালন করবেন এবং ব্যক্তিগত আচরণে সংযম বজায় রাখবেন।![]()
ঘোষণাপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি কোনো সরকার বা জাতিসংঘের বাইরের অন্য কোনো উৎস থেকে কোনো ধরনের নির্দেশনা চাইবেন না বা গ্রহণ করবেন না। সভাপতির পদে নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা বজায় রাখার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
আজ থেকেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের বৈঠক পরিচালনা করবেন এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সভাপতিত্ব করবেন।
আগামী ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হবে অধিবেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব—উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বক্তব্য দেবেন বিশ্বনেতারা।
বাংলাদেশের জন্য এ দায়িত্ব কূটনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর পর কোনো বাংলাদেশি, তাও দায়িত্বে থাকা পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে বসে বৈশ্বিক অধিবেশন পরিচালনা করবেন। এটি আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা ও বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে দেশের সক্রিয় ভূমিকারও স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদ মূলত নিরপেক্ষ ও সমন্বয়মূলক নেতৃত্বের একটি দায়িত্ব। এই পদে থেকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংলাপের পরিবেশ তৈরি, মতপার্থক্য দূরীকরণ এবং বৈশ্বিক ঐকমত্য গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হয়। সেই দায়িত্ব পালনে খলিলুর রহমানের মেয়াদ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।![]()