নিজস্ব প্রতিবেদক
টানা তিন মাস ৯ শতাংশের ওপরে থাকার পর জুলাইয়ে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে নেমেছে। জুনে এ হার ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। ফলে এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি কমেছে শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশীয় পয়েন্ট। ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতির হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
মঙ্গলবার জুলাইয়ের মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে দেশের মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে উঠেছিল। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পর সেটিই ছিল ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৪ শতাংশ।
জুলাইয়ে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত—দুই খাতেই মূল্যস্ফীতি কমেছে। তবে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমার ক্ষেত্রে খাদ্যপণ্যের দাম কমে আসার প্রভাব ছিল বেশি।
জুলাইয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশে। জুনে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমেছে ১ দশমিক ৪৪ শতাংশীয় পয়েন্ট। ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর এটিই খাদ্য মূল্যস্ফীতির সর্বনিম্ন হার।
খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও জুলাইয়ে কমেছে। জুনে এ খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। জুলাইয়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২৮ শতাংশে। গত বছরের জুলাইয়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতির সাম্প্রতিক প্রবণতায় দেখা যায়, চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে এটি ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এপ্রিলে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে মে মাসে বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে ওঠে। জুনে তা কিছুটা কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নামে। জুলাইয়ে এসে মূল্যস্ফীতির হার আরও কমে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতির ৭ শতাংশের ঘরে নেমে আসা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতি এখনো ৯ শতাংশের কাছাকাছি থাকায় মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর চাপ পুরোপুরি কমেনি।