টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজার ও টেকনাফ অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস
কক্সবাজারের ৯টি উপজেলার অন্তত ৩৫টি ইউনিয়ন বর্তমানে প্রবল বর্ষণ এবং পাহাড়ী ঢলের কারণে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের কবলে পড়েছে। সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে গত ৪ দিনে রেকর্ড ৭৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ করেছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস। উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং স্থানীয় বাসিন্দাসহ এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার একটি বড় অংশই ঘটেছে পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে।
কক্সবাজারে ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখের আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে এবং গত কয়েকদিনের রেকর্ড ভাঙা ৭৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের কারণে উখিয়া ও টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ পুরো জেলায় ভয়াবহ বন্যা, জলাবদ্ধতা ও মারাত্মক ভূমিধস দেখা দিয়েছে। এই দুর্যোগে উখিয়া ও টেকনাফ সংলগ্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে শিশুসহ বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন এবং টেকনাফ উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি ও পূর্বাভাস (৯ জুলাই ২০২৬)
বর্তমানে কক্সবাজারে ভারী বৃষ্টিপাত (Heavy Rain) অব্যাহত রয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতা ৯৩% এবং তাপমাত্রা ২৬°সে থেকে ২৭°সে এর মধ্যে ওঠানামা করছে। আজ রাতের পাশাপাশি আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত অঞ্চলটিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের এই ধারা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
টেকনাফ ও সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতি
· নিম্নাঞ্চল প্লাবিত: টেকনাফ, উখিয়া, রামু, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী এবং কক্সবাজার সদরসহ সবকটি উপজেলার লাখেরও বেশি মানুষ এখন পানিবন্দী। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৬ ফুট উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
· সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত টেকনাফ: টেকনাফের হোয়াইক্যং, হ্নীলা, সদর, সাবরাং এবং বাহারছড়া ইউনিয়নের বহু গ্রাম সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
· যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: বৈরি আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথের বোট চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া পাহাড়ি ঢলে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল স্থগিত রয়েছে।
· প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ক্ষয়ক্ষতি: টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ভূমিধসের ঘটনায় উখিয়া ও টেকনাফ সংলগ্ন রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে বেশ ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
· প্রশাসনের প্রস্তুতি: পরিস্থিতি বিবেচনায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন জরুরি কন্ট্রোল রুম খুলেছে। দুর্গতদের জন্য ৬৪৮টি সাইক্লোন শেল্টার বা আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জরুরি সহায়তা ও আশ্রয়: ক্যাম্পের পাশাপাশি পুরো জেলায় সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি উদ্ধার ও সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে 01872-615132 হটলাইন চালু করা হয়েছে।