জেমসের প্রাক্তন স্ত্রী রথী মাছরাঙা টিভিতে এসে বলেছেন সন্তানসহ বাসা থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয় জেমস তাকে। জেমসের সাথে যখন বিয়ে হয় রথী সেসময় মডেলিং করতেন। অভিনয়ও করতেন।
রথীকে জেমস ভালোবেসেই বিয়ে করেছিলেন। সংসারের শুরুতেই নিজের ক্যারিয়ার থেকে তাকে সরিয়ে ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছেন তাকে ভালো রাখার দায়িত্ব। আর সময় বুঝে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করেছেন।
আবার আমাদের হুমায়ুন আহমেদ, উনিও ভালোবেসে বিয়ে করা স্ত্রী গুলতেকিনকে বহুবার ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছেন, একই কাজ করেছেন আমাদের সেল্ফ ক্লেইমড নাম্বারওয়ান শাকিব খানও।
ভালোবেসেছেন-বিয়ে করেছেন-সন্তান পয়দা করেছেন- স্ত্রীকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করেও দিয়েছেন।
তাই বরেণ্য অভিনয়শিল্পী আফজাল হোসেন প্রায়ই ফেসবুকে পোস্ট করেন কীভাবে তার স্ত্রী নিজের মেধা- ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়ে তাকে-তার পরিবারকে সামলেছে। সেখানে সুধীজনেরা ধন্য ধন্য করে, স্ত্রীর প্রসংসা এভাবে কয়জন করে! অথচ গল্পটা এমনও হতে পারতো স্ত্রীর সাকসেসে তিনি কীভাবে পাশে ছিলেন! যদ্দুর জানি ওনার স্ত্রীর একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড এমেজিং লেভেলের।।এই সোসাইটিতে স্যাক্রিফাইসিং স্ত্রীর গল্প যত শ্রুতিমধুর, সুখী স্ত্রীর গল্প ততটা নয়!
আর তাই শহীদুজ্জামান সেলিমের মতো জাত অভিনেতারা টক শোতে বুক ফুলিয়ে চিটিং এর গল্প শুনায়। “আমি এমনই। এটা জেনেই আমাকে এক্সেপ্ট করতে পারলে করো নইলে চলে যাও”! অথচ যে চিট করে তার লজ্জা পাওয়ার কথা ছিলো! অনুতাপ করার কথা ছিলো। ক্ষমা চাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু ওনারা কর্তা, ওনারা প্রভু, ওনাদের অপরাধ ধরে সাধ্য কার
” আমাকে স্যার ডাকবেন” খ্যাত ফারুক হোসেনও গর্ব করেই বলেন যে কীভাবে তার স্ত্রী, সেই ফুলিকে তিনি অভিনয় থেকে সরিয়েছেন। অথচ ফুলিও দাপুটে অভিনেত্রী ছিলেন। ফারুকের চাইতে তার যোগ্যতা কোনো অংশেই কম ছিলো না। ফারুক হোসেন চাইলেই অভিনয় করেন না এমন কাউকে বিয়ে করতে পারতেন। সেটা না করে ক্যারিয়ারে সবে লাইম লাইটে আসতে শুরু করেছে এমন একজনকে বিয়ে করে লাইট থেকেই আড়াল করে নিজে ঠিকই লাইট টা নিয়ে নিলেন।
কিছুদিন আগে সোহেল খান নামক আরো এক বরেন্য অভিনেতা টকশো তে এসে একই রকম দম্ভ ভরে বলেছিলো ” বৌ একটা ঝামেলা। বাসায় গেলেও বাজার নাই, নুন নাই, তেল নাই। খালি নাই নাই।” অথচ তেল নূন বাজারের মতো নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের কথা কেন বলতে হবে এটাই মাথায় ঢোকে না। আপনার অর্থ থাকার পরেও যদি বৌ বাচ্চার দৈনন্দিন আহারের জন্য ঘ্যান ঘ্যান করা লাগে, আপনার লজ্জা পাওয়া উচিত! অথচ সেই গল্পও এরা দম্ভ ভরে বলে।
এই যে মিথিলা কে এতো গালাগালি করা হয় তাহসানের সাথে ঘর করতে পারলো না বলে, তাহসানের লাইফে আদতে একমাত্র এচিভমেন্টই ছিলো মিথিলা। তাহসানের কাছ থেকে সরার পর স্ক্যান্ডাল(!!) ছাড়াও মিথিলার এচিভমেন্টের অভাব নাই। মিথিলার প্রফেশানের জায়গায় সে পিকে উঠছে, যেই ডিগ্রী বাগাইছে ঐটা পড়াশুনা না করলে বাগানো সম্ভব না। পিএইচডি আছে!
মিথিলা যাওয়ার পর তাহসানের ভন্ডামি ছাড়া কোনো এচিভমেন্ট নাই। উরাধুরা লাফালাফি করা সি গ্রেইডেড কিছু গান আছে, ফ্লপ সিনেমা আছে, ফেইল্ড ম্যারেজ আছে, আর কনসার্টে কনসার্টে খুব সস্তা ইমোশনাল ফাত্রামি আছে।
যদ্দুর জানি তাহসানের আগেকার ফেইমাস গান গুলোর অনেকগুলোরই রাইটার মিথিলা। মানে যে কারণে তাহসান ফেইমাস ছিলো সেটাতেও তার নিজের ক্রেডিট নাই খুব একটা।৷ তবে তাহসানকে কিন্তু কেউ শেইম করে না মিথিলার সাথে সংসার করতে না পারার জন্য।
মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির প্রথিযশা সো কলড পুরুষদের এই প্রভুত্ব আসলে একটা লুপ। এই লুপের রঙ বদলায়, মুখ বদলায়, ঘটনা বদলায়, ফলাফল বদলায় না। তাই নোবেলের মতো স্ট্যাবিলিশড উইমেনাইজার বা প্রিন্স মামুনের মতো স্ট্যাব্লিশড জিগোলো যে পরিমাণ মিডিয়া এটেনশান পায় তার সিকিভাগ পায় না কোনো একাডেমিশিয়ান বা রিসার্চার।
এই পুরুষদের কেউ স্ত্রীকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়, কেউ স্ত্রীর ঘাড়ের ওপর সিন্দাবাদের ভূত চাপিয়ে দেয়, কেউ আবার সেটাকেই ভালোবাসার গল্প, ত্যাগের গল্প বানিয়ে হাততালি নেয়।
এদের কাছে বউ মূলত মানুষ না, বউ একটা লাইফটাইম সার্ভিস প্যাকেজ। আর সেই প্যাকেজ একদিন নিজেই ‘ক্যানসেল’ করতে চাইলে অপরাধী তখনও ঘুরে ফিরে বউই।
আর এই যে ২০২৬ সালে এসেও এই দেশে রে*ই*প থেকে শুরু করে ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের যেই প্যাটার্ন এটাও এই মিডিয়া পুরুষদেরই কৃতিত্ব!
বছরের পর বছর ওনারা এগুলোই প্রমোট করে গেছেন গানে, নাটকে, সিনেমায়!![]()