বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের শপথ গ্রহণের পর নতুন দায়িত্ব নিলেন ছয়জন
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন করে চারজন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন ছয়জন সদস্য যুক্ত হলেন।
বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নবনির্বাচিত ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ প্রথম রাষ্ট্রীয় আয়োজনগুলোর একটি।
এর আগে একই অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। শপথ গ্রহণের পর তিনি নবনিযুক্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব গ্রহণের শপথ এবং গোপনীয়তা রক্ষার শপথ পাঠ করান।![]()
অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, সংসদ সদস্য এবং আমন্ত্রিত অতিথিরাও বঙ্গভবনের এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন।
শপথ গ্রহণকারী চার মন্ত্রীর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসা এই প্রবীণ নেতা নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন।
মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও জামালপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রশিদুজ্জামান মিল্লাত। দলীয় সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় এই নেতার মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি সরকারের নতুন কাঠামোয় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।![]()
অন্য দুই মন্ত্রীর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরি। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে তার মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় জোটসঙ্গী দলের গুরুত্বপূর্ণ এই নেতার অন্তর্ভুক্তির মধ্য দিয়ে সরকারের রাজনৈতিক পরিসর আরও বিস্তৃত হলো।
নতুন দুই প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। টেকনোক্র্যাট হিসেবে তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে সরকার তাকে মন্ত্রিসভার অংশ করেছে।
অন্যদিকে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তার শপথের মধ্য দিয়ে সংসদীয় রাজনীতিতে সক্রিয় আরও একজন নেতা সরকারের নির্বাহী কাঠামোয় যুক্ত হলেন।
শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নবনিযুক্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব পালনে সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের প্রতি নিষ্ঠাবান থাকার অঙ্গীকার করান। একই সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষার শপথও পাঠ করানো হয়।
একই দিনে রাষ্ট্রপতির শপথ এবং নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সৃষ্টির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকারের মন্ত্রিসভায় এর আগে থেকেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা রয়েছেন। নতুন ছয়জনের অন্তর্ভুক্তির ফলে সরকারের মন্ত্রিসভা আরও বিস্তৃত হলো। বিশেষ করে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব, জোটের অংশীদারিত্ব এবং বিশেষজ্ঞ জ্ঞান—এই চারটি দিক নতুন নিয়োগে প্রতিফলিত হয়েছে।
ড. আবদুল মঈন খান, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সাচিং প্রু জেরি ও আন্দালিব রহমান পার্থ—চারজনই সংসদ সদস্য হিসেবে মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। অন্যদিকে হুমায়ুন কবির টেকনোক্র্যাট হিসেবে এবং মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন।
বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ছয়জনের আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের অংশ হওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোতেও নতুন সংযোজন ঘটল। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্ব গ্রহণের দিনেই এই শপথ অনুষ্ঠান হওয়ায় দিনটি সরকারের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে, নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টনের পর সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে আরও সক্রিয়তা প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, আঞ্চলিক উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভূমিকা সরকারের আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে ২১ আগস্টের বঙ্গভবনের শপথ অনুষ্ঠান বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে থাকল। একদিকে নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় ছয় নতুন সদস্যের অন্তর্ভুক্তি—দুটি ঘটনাই দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইতিহাসে একই দিনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।![]()