ঢাকায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে লুটপাট ও ভাঙচুর এবং ইসিবি চত্বরে একটি কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য এগুলো অশনিসংকেত।
রোববার এক বিবৃতিতে টিআইবি বলেছে, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপিতে লুটপাট, ভাঙচুর ও জবরদখলের ঘটনা ক্ষমতাসীন দলের জন্য বিব্রতকর দৃষ্টান্ত। জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি সারা দেশে দলের আত্মশুদ্ধিমূলক কার্যক্রমের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের একজন সদস্যের পৃষ্ঠপোষকতায় পুলিশের উপস্থিতিতে শত শত মানুষের সামনে দীর্ঘদিন ধরে গরিব ও অসহায় মা-শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের ঘটনায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসা দলের নেতা-কর্মীদের এমন কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের কাছে কী বার্তা দিচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পর বিএনপির একটি অংশের বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। বাস টার্মিনাল, ফুটপাত, বাজার, জলমহাল, বালুমহাল, হাটবাজার, কেব্ল ও ইন্টারনেট ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে এসব অভিযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এসব কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। কিশোরগঞ্জে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং একটি ক্রিয়েটিভ স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনাকেও একই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে টিআইবি।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক বলেন, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। ২০২৪ সালের আগস্টের পরের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে এগুলোর ধারাবাহিকতা রয়েছে। সরকার এখনই কার্যকর আত্মশুদ্ধিমূলক পদক্ষেপ না নিলে দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দলীয়ভাবে বহিষ্কারসহ কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হলেও কঠোর প্রতিরোধের ঘাটতি রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছে টিআইবি।
এতে স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি ফিরে আসার আশঙ্কা প্রকাশ করে সংস্থাটি। একই সঙ্গে প্রতিটি ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে টিআইবি।![]()