দাম বাড়ানোর পরও রাজধানীর খুচরা বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। বিশেষ করে আধা লিটার ও এক লিটারের বোতল বাজারে পাওয়া যাচ্ছে কম। অনেক দোকানে দুই ও পাঁচ লিটারের বোতল থাকলেও ছোট প্যাকেটের তেল মিলছে না বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। একই সময়ে আটা ও ময়দার দামও বেড়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের নতুন নির্ধারিত দাম ২০৪ টাকা। এর আগে দাম ছিল ১৯৯ টাকা। কিন্তু মূল্য বাড়ানোর পরও সরবরাহে ঘাটতি কাটেনি। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো বাজারে পর্যাপ্ত বোতলজাত তেল ছাড়ছে না। পরিবেশকদের কাছে বারবার তাগাদা দিয়েও প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না।
বিক্রেতারা জানান, বর্তমানে অল্প কয়েকটি কোম্পানি বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল সরবরাহ করছে। তাও দুই ও পাঁচ লিটারের বোতল তুলনামূলক বেশি। ফলে এক লিটার তেল কিনতে আসা ক্রেতাদের একাধিক দোকান ঘুরতে হচ্ছে। কেউ কেউ প্রয়োজনের চেয়ে বড় বোতল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
এদিকে তেলের পাশাপাশি আটা ও ময়দার বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে গত এক মাসে খোলা আটার দাম কেজিতে ৩ টাকা এবং খোলা ও মোড়কজাত ময়দার দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। বাজারে খোলা আটা প্রায় ৫০ টাকা এবং খোলা ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। বিভিন্ন বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১৯৮ থেকে ২০০ টাকা এবং পাম তেল ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে ডিমের দামও সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে শুধু মূল্য নির্ধারণ করে ভোক্তা পর্যায়ে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা কঠিন। তাই পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান, পরিবেশক ও খুচরা পর্যায়ে সরবরাহ ব্যবস্থার নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
![]()