দীর্ঘ চিকিৎসার বিরতিতে দেশে ফিরছেন ইলিয়াস কাঞ্চন, থাকবেন ৭–১০ দিন
দীর্ঘ ১৫ মাসেরও বেশি সময় যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা নেওয়ার পর সাময়িকভাবে দেশে ফিরছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। সোমবার বিকেলে তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। চিকিৎসার তৃতীয় ধাপ শেষ হওয়ায় কয়েক দিনের জন্য স্বজন, সহকর্মী ও দেশের মানুষের কাছে ফিরে আসছেন তিনি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিসচার ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ। তিনি জানান, রোববার বাংলাদেশ সময় গভীর রাতে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে মেয়ে ও জামাতাকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন ইলিয়াস কাঞ্চন। সোমবার বিকেল ৫টার দিকে তাঁকে বহনকারী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।
ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হওয়ার পর ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানে হাসপাতালের পাশাপাশি মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। একই বছরের আগস্টে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের বড় একটি অংশ অপসারণ করতে সক্ষম হলেও ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার অপসারণ সম্ভব হয়নি। পরবর্তী পরীক্ষায় তাঁর ব্রেন ক্যানসার ধরা পড়ে।
পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ এই চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় সপ্তাহে পাঁচ দিন করে টানা ১২ সপ্তাহ কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে তাঁকে। এরপর তিন মাসের প্রথম ধাপের ওরাল থেরাপি শেষ করে দ্বিতীয় ধাপের আরও তিন মাসের ওরাল থেরাপি সম্পন্ন করেছেন। সব মিলিয়ে তিন ধাপে প্রায় একশ কেমোথেরাপি গ্রহণ করেছেন এই বরেণ্য অভিনেতা।
লিটন এরশাদ বলেন, দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকতে থাকতে ইলিয়াস কাঞ্চন মানসিকভাবে দেশে ফেরার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন। তৃতীয় ধাপের থেরাপি শেষ হওয়ার পর কয়েক মাসের জন্য দেশে আসার ইচ্ছার কথা তিনি পরিবারকে জানান। সেই ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়েই তাঁকে দেশে আনা হচ্ছে।
তবে চিকিৎসা এখনও শেষ হয়নি। লিটন এরশাদ জানান, ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। গত ৩০ জুলাই তাঁর তৃতীয় ধাপের থেরাপি শেষ হয়েছে। কিছুদিন দেশে অবস্থান করার পর আবারও যুক্তরাজ্যে ফিরে পরবর্তী ধাপের চিকিৎসা শুরু করবেন তিনি।
বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৭ থেকে ১০ দিন অবস্থান করবেন ইলিয়াস কাঞ্চন। এরপর পুনরায় যুক্তরাজ্যে গিয়ে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে পরবর্তী চিকিৎসা গ্রহণ করবেন।
বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এই অভিনেতা অভিনয়ের পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের অন্যতম মুখ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। তাঁর দেশে ফেরার খবরে সহকর্মী, ভক্ত এবং শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ও আবেগের সঞ্চার হয়েছে। যদিও তাঁর চিকিৎসা এখনও চলমান, তবু স্বল্প সময়ের জন্য হলেও দেশের মাটিতে ফেরাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন অনেকে।![]()