নিউইয়র্কে দ্য ডেইলি স্টারের বাংলা বিভাগের সাবেক সম্পাদক ও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন কাদের গনি চৌধুরী। এ সময় গোলাম মোর্তজার আতিথেয়তা ও আন্তরিকতার প্রশংসা করে পুরোনো দিনের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন তিনি।
এক ফেসবুক পোস্টে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘গোলাম মোর্তজা ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হলো নিউইয়র্কে। দ্য ডেইলি স্টারের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন সম্পাদক। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রেস মিনিস্টার হিসেবে কর্মরত আছেন। একজন অমায়িক মানুষ। নিউইয়র্কে গিয়ে তাঁর যে আতিথেয়তা ও আন্তরিকতা পেয়েছি, তা ভোলার মতো নয়।’
গোলাম মোর্তজার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের শুরু তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে বলে উল্লেখ করেন কাদের গনি চৌধুরী। তাঁর ভাষ্য, সে সময় সরকারবিরোধী আন্দোলন ও ছাত্র হত্যার ঘটনাগুলো নিয়ে তাঁরা নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও আদান-প্রদান করতেন।![]()
কাদের গনি চৌধুরী লিখেছেন, ‘উনার সঙ্গে আমার যোগাযোগটা ফ্যাসিস্ট জমানায়—যখন খুনি সরকার নির্বিচারে ছাত্রহত্যা করছিল। ছাত্রহত্যার পর লাশগুলো গুম করে ফেলতো। আমরা বিভিন্ন হাসপাতালে গোপনে খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য আদান-প্রদান করতাম।’
তিনি বলেন, ওই সময়ে বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাঁদের তথ্যের অন্যতম উৎস ছিলেন। তবে তথ্য দেওয়ার সময় চিকিৎসকেরা নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করতেন।
কাদের গনি চৌধুরীর ভাষায়, ‘ওই ভয়ঙ্কর সময়ে উনার সঙ্গে নিয়মিত কথা হতো। আমাদের সোর্স ছিল ওই সব হাসপাতালের চিকিৎসক। উনারা তথ্য দিয়ে বলতেন, সোর্স হিসেবে তাঁদের নাম দেওয়া যাবে না।’
বাংলাদেশের গণমাধ্যমে সবসময় এসব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হতো না বলেও দাবি করেন তিনি। সে ক্ষেত্রে বিদেশি গণমাধ্যমের মাধ্যমে তথ্য প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হতো বলে উল্লেখ করেন কাদের গনি চৌধুরী।
তিনি আরও লিখেছেন, ‘অনেক সময় এসব নিউজ বাংলাদেশের মিডিয়ায় ছাপা যেত না। আমরা এসব তথ্য বিদেশি গণমাধ্যমে সরবরাহ করতাম।’
এ প্রসঙ্গে জার্মানিতে কর্মরত সাংবাদিক মারুফ মল্লিকের নামও উল্লেখ করেন কাদের গনি চৌধুরী। তাঁর ভাষ্য, সে সময় মারুফ মল্লিক জার্মানির একটি অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক ছিলেন এবং বাংলাদেশ থেকে পাঠানো তথ্য ও ছবি দ্রুত প্রকাশ করতেন।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘বিশেষ করে আরেকজনের নাম না বললেই নয়। মারুফ মল্লিক। সে সময় তিনি জার্মানির একটি অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক। আমরা এখান থেকে যেসব তথ্য ও ছবি পাঠাতাম, উনি তাৎক্ষণিক সেটি প্রকাশ করতেন।’
নিউইয়র্কের এই সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে সেই সময়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতার নানা স্মৃতি আবারও সামনে এসেছে বলে জানান কাদের গনি চৌধুরী।![]()