নিউইয়র্কে সিটি পরিচালিত দোকানে নিত্যপণ্যে ৩০ শতাংশ ছাড়
খাদ্য ব্যয় কমাতে মেয়র মামদানির নতুন উদ্যোগ; বছরে এক হাজার ডলার পর্যন্ত সাশ্রয়ের আশা
নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দাদের ক্রমবর্ধমান খাদ্য ব্যয়ের চাপ কমাতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সিটি প্রশাসন। মেয়র জোহরান মামদানি ঘোষণা দিয়েছেন, সিটি পরিচালিত কমিউনিটি মুদি দোকানগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য বাজারমূল্যের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম দামে বিক্রি করা হবে। প্রশাসনের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো উল্লেখযোগ্য আর্থিক স্বস্তি পাবে এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্য আরও সহজলভ্য হবে।
সোমবার (২৭ জুলাই) ব্রুকলিনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন মেয়র মামদানি। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে সিটি পরিচালিত পাঁচটি কমিউনিটি গ্রোসারি স্টোরে নির্ধারিত মৌলিক খাদ্যপণ্যের দাম বাজারদরের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম রাখা হবে। এসব পণ্যের মূল্য পুরো মাসজুড়ে অপরিবর্তিত থাকবে, ফলে বাজারে প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে দামের ওঠানামার প্রভাব থেকে ক্রেতারা মুক্ত থাকবেন।
সিটি প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় একটি পরিবার প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৯০ মার্কিন ডলার এবং বছরে প্রায় এক হাজার ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারবে। মূল্যস্ফীতির কারণে যেসব পরিবার খাদ্য ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে, তাদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ছাড়ের আওতায় থাকবে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় নানা খাদ্যপণ্য। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, চাল, ডাল, পাস্তা, রুটি, দই, মাংস, সামুদ্রিক মাছ এবং অন্যান্য মৌলিক খাদ্যসামগ্রী। সিটি কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব পণ্যের দাম মাসজুড়ে স্থির রাখার ফলে ক্রেতাদের অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধের ঝুঁকি কমবে এবং পরিবারের মাসিক বাজেট পরিকল্পনা করাও সহজ হবে।
পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়ে মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, “নিউইয়র্কের কোনো পরিবার যেন খাবারের খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় না থাকে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য। প্রত্যেক মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও পুষ্টিকর খাদ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।”
এই প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সিটি কর্তৃপক্ষ নতুন তিনটি কমিউনিটি গ্রোসারি স্টোর পরিচালনার জন্য ৪৪ পৃষ্ঠার দরপত্র আহ্বান করেছে। এর আগে ব্রঙ্কসের হান্টস পয়েন্ট এবং ম্যানহাটনের ইস্ট হারলেমের লা মারকেটাকে নতুন স্টোর স্থাপনের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯ সালের মধ্যে মোট পাঁচটি সিটি পরিচালিত মুদি দোকান চালু করা হবে।
প্রকল্পের কাঠামো অনুযায়ী, দোকান স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জমি বা ভবন সরবরাহ করবে সিটি সরকার। দোকান নির্মাণ বা সংস্কারের ব্যয়ও বহন করবে প্রশাসন। তবে প্রতিদিনের পরিচালনা, পণ্য সংগ্রহ ও বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করবে নির্বাচিত বেসরকারি অপারেটর।
তবে এই উদ্যোগ ঘোষণার পর থেকেই কিছু ব্যবসায়ী ও সমালোচক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, সরকারি সহায়তায় পরিচালিত কম দামের মুদি দোকান চালু হলে স্থানীয় ছোট মুদি দোকান বা বোডেগাগুলোর ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এই সমালোচনার জবাবে মেয়র মামদানি বলেন, সিটি পরিচালিত দোকানগুলোকে স্থানীয় বোডেগার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে না। তিনি জানান, এসব দোকানে সিগারেট, মদ, লটারির টিকিট কিংবা প্রস্তুত গরম খাবার বিক্রি করা হবে না। কারণ এসব পণ্য স্থানীয় বোডেগাগুলোর আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ফলে সিটি পরিচালিত দোকানগুলো মূলত মৌলিক খাদ্যপণ্যের ওপরই গুরুত্ব দেবে এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা এড়িয়ে চলবে।
সিটি প্রশাসন জানিয়েছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মূলধন বাজেটে ৭ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম সিটি পরিচালিত মুদি দোকান আগামী বছর ব্রঙ্কসে চালু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে ইস্ট হারলেমসহ অন্যান্য এলাকায় নতুন শাখা চালু করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির কারণে খাদ্যপণ্যের দাম কয়েক বছর ধরেই উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। নিউইয়র্কের মতো ব্যয়বহুল শহরে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য খাদ্য ব্যয় বড় ধরনের চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে সিটি পরিচালিত স্বল্পমূল্যের মুদি দোকান চালুর উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য উল্লেখযোগ্য সহায়তা হতে পারে। তবে প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে পণ্যের সরবরাহ, মূল্য স্থিতিশীলতা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় ব্যবসার সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর।