প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা চলছে। জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা, সরকারি বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে এ সভায় আলোচনা হচ্ছে।
রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এ সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন। একনেকের সভায় সাধারণত নতুন প্রকল্প অনুমোদনের পাশাপাশি চলমান প্রকল্পের সংশোধন, ব্যয় বৃদ্ধি, বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে দেখা দেওয়া বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচিতে একনেকের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো প্রকল্প অনুমোদনের আগে এর প্রয়োজনীয়তা, সম্ভাব্য ব্যয়, অর্থায়নের উৎস, বাস্তবায়নকাল এবং প্রত্যাশিত সুফল পর্যালোচনা করা হয়। সভায় প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা শেষে অনুমোদন বা সংশোধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে ২০২৬ সালের ৯ জুন অনুষ্ঠিত একনেক সভায় অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন ও সংশোধিত মিলিয়ে ১২টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। সেখান থেকে ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
এরপর ১৬ জুনের একনেক সভাতেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেন। ওই সভা সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব মো. সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ সভার তথ্য জানিয়েছিলেন।
একনেকের সাম্প্রতিক সভাগুলোতে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও আর্থসামাজিক উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত ১৯ আগস্টের সভায় অনুমোদনের জন্য ১১টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়েছিল। সভাটি রাজধানীর শেরেবাংলানগরে পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত হয়।
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও বাস্তবায়নের গুণগত মান নিশ্চিত করাও একনেকের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, ব্যয় বৃদ্ধি এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার কারণে সরকারের উন্নয়ন ব্যয়ের কার্যকারিতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে প্রকল্প অনুমোদনের পাশাপাশি বাস্তবায়ন পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও গুরুত্ব পাচ্ছে।
আজকের সভায় কোন কোন প্রকল্প অনুমোদন বা সংশোধন করা হবে, সভা শেষে তার বিস্তারিত জানা যাবে। সাধারণত একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অনুমোদিত প্রকল্প, মোট ব্যয়, অর্থায়নের উৎস এবং বাস্তবায়নকালসহ বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করা হয়।
চলমান সভার সিদ্ধান্তগুলো দেশের সরকারি বিনিয়োগ ও উন্নয়ন পরিকল্পনার পরবর্তী অগ্রাধিকার সম্পর্কে ধারণা দেবে। বিশেষ করে অবকাঠামো ও জনসেবা খাতে নতুন প্রকল্পের অনুমোদন হলে আগামী অর্থবছরের উন্নয়ন কর্মসূচিতে তার প্রতিফলন পড়বে।![]()