ঢাকায় নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত সেঁরে-শার্লে বলেছেন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরো জোরদার করতে প্রস্তুত ফ্রান্স। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা জানান। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় হুমায়ুন কবিরকে অভিনন্দন জানান ফরাসি রাষ্ট্রদূত। এ সময় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, বিমান চলাচল, শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরো বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণে ফ্রান্সের অব্যাহত সহযোগিতার প্রশংসা করেন হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, বিমান চলাচল, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতে ফ্রান্সের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশে ফরাসি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, মহাকাশ, প্রযুক্তি ও ওষুধ শিল্পকে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে বৈধ ও নিয়মিত শ্রম অভিবাসনের সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিও পুনর্ব্যক্ত করেন হুমায়ুন কবির।
ফরাসি রাষ্ট্রদূত পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব খাতে সহযোগিতা আরো জোরদারে তাঁর দেশের প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কারের লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের প্রশংসা করে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য ফ্রান্সের অব্যাহত মানবিক সহায়তারও প্রশংসা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মতি প্রকাশ করে।
বৈঠকে বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্কের গতিশীলতা আরো বাড়াতে নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতা সম্প্রসারণের গুরুত্বের ওপর জোর দেন উভয় পক্ষ।![]()