বর্জ্য আর বোঝা নয়, সম্পদ: ঢাকায় ওয়েস্ট-টু-এনার্জির দুই বড় প্রকল্প
ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে সরকার। রাজধানীর বর্জ্যকে আর শুধু অপসারণের বিষয় হিসেবে নয়, বরং জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে দুটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। একটি ওয়েস্ট-টু-এনার্জি কেন্দ্র নির্মিত হবে আমিনবাজারে এবং অন্যটি মাতুয়াইলে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আমিনবাজার প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে একটি চীনা প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় প্রতিষ্ঠানটিই বহন করবে। অন্যদিকে মাতুয়াইল প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান বি অ্যান্ড এফ।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠকে প্রকল্প দুটির অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে সংশ্লিষ্টদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে উৎপাদন শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আমিনবাজারের ওয়েস্ট-টু-এনার্জি কেন্দ্র প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার টন বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। প্রকল্পটি টানা ২৫ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
অন্যদিকে মাতুয়াইল প্রকল্পে প্রতিদিন প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টন বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা হবে। এ প্রকল্প থেকে বছরে প্রায় ১৫ হাজার টন মিথেন গ্যাস উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই গ্যাস ব্যবহার করে বছরে প্রায় ৮১ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে, যা গড়ে প্রায় ২২১ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার সমতুল্য। একই সঙ্গে প্রকল্পটি থেকে সৌরবিদ্যুৎ, জৈব সার, পশুখাদ্য এবং পরিবেশবান্ধব ইকো-ব্রিকস উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশ্বের উন্নত দেশগুলো বহু বছর ধরেই বর্জ্যকে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করছে। এতে যেমন পরিবেশ দূষণ কমে, তেমনি ল্যান্ডফিলের ওপর চাপও হ্রাস পায় এবং নতুন অর্থনৈতিক মূল্য সৃষ্টি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে সহায়ক হবে না, বরং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং একটি চক্রাকার অর্থনীতি গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। দীর্ঘদিনের পরিবেশগত চ্যালেঞ্জকে সম্পদে রূপান্তরের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের টেকসই নগর উন্নয়ন ও সবুজ অর্থনীতির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।