মোস্তফা কামাল
চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)
বাংলাদেশে সার্কুলার ইকোনমি, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণের ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং সম্পদের দক্ষ ব্যবহারে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)। শিল্পপ্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কার্যক্রমে পরিত্যক্ত কাগজ, কার্টন, প্লাস্টিক বর্জ্য ও ধানের তুষের মতো উপকরণ পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনে কাজে লাগানো হচ্ছে। এতে একদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতি হচ্ছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে অর্থনৈতিক মূল্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ।
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন তাঁদের ব্যবসায়িক দর্শনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে হলে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। শিল্পের প্রকৃত অগ্রগতি তখনই সম্ভব, যখন তা প্রকৃতি, পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হয়।
রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত ‘গ্রিন ডায়ালগ: জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনীতির পুনর্বিন্যাস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের প্যানেল আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি। আলোচনায় শিল্প উৎপাদনে বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পুনর্ব্যবহৃত উপকরণের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরেন মোস্তফা কামাল।
তিনি বলেন, নতুন শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার জলবায়ু, পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়। শিল্পায়নের লক্ষ্য কেবল উৎপাদন বাড়ানো বা ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি অর্জন নয়; উৎপাদন কার্যক্রমের সঙ্গে পরিবেশগত দায়বদ্ধতার সমন্বয়ও জরুরি। এ কারণেই সার্কুলার ইকোনমি ও রিসাইক্লিংয়ের মতো কার্যক্রমে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে মেঘনা গ্রুপ।
পরিত্যক্ত কাগজ থেকে শিল্পের কাঁচামাল
মেঘনা গ্রুপের পুনর্ব্যবহার কার্যক্রমের অন্যতম উদাহরণ কাগজ ও কার্টন পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ। মোস্তফা কামাল জানান, ২০০৭ সালের দিকে গ্রুপটির একটি পেপার ফ্যাক্টরি উদ্বোধন করা হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পরিত্যক্ত কাগজ ও কার্টন সংগ্রহ করে সেগুলো পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বিভিন্ন পর্যায়ের সংগ্রহকারী ও ঠিকাদার, যাঁদের মাধ্যমে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কাগজের বর্জ্য কারখানার কাঁচামালে পরিণত হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ কার্যক্রমের জন্য বেশ কিছু ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিত্যক্ত কাগজ সংগ্রহ করেন। আগে এ ধরনের সংগ্রহের কার্যক্রম মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক থাকলেও এখন খুলনা, বগুড়া, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কাগজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে এসব উপকরণ কারখানায় এনে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা হয়। উৎপাদিত কাগজ ও কার্টন বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহারের উপযোগী করা হয়।
এ ব্যবস্থার অর্থনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি পরিবেশগত তাৎপর্যও রয়েছে। সাধারণভাবে ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া কাগজ ও কার্টন বর্জ্য হিসেবে পরিবেশে জমা হয়। কিন্তু সেগুলো সংগ্রহ করে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা গেলে নতুন কাঁচামালের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে যুক্ত মানুষের কর্মসংস্থানও তৈরি হয়।
মোস্তফা কামাল বলেন, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যে বর্জ্য তৈরি হয়, তার একটি অংশ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে। অর্থাৎ, একটি প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন অবশিষ্ট উপকরণ অন্য কাজে লাগানোর মাধ্যমে বর্জ্যের ব্যবহারিক মূল্য তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের এ পদ্ধতিতে একদিকে অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের জন্যও কাজ করা সম্ভব হচ্ছে।
সার্কুলার ইকোনমির মূল ধারণা হলো—কোনো পণ্য ব্যবহারের পর সেটিকে সরাসরি বর্জ্য হিসেবে ফেলে না দিয়ে পুনর্ব্যবহার, মেরামত, পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বা অন্য কোনো উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কাজে লাগানো। এতে কাঁচামালের অপচয় কমে এবং একই সম্পদ থেকে একাধিকবার অর্থনৈতিক মূল্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। মেঘনা গ্রুপের কাগজ ও কার্টন পুনর্ব্যবহারের কার্যক্রম এ ধারণারই একটি বাস্তব উদাহরণ।
প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারে নতুন সুযোগ
কাগজের পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কাজ করছে মেঘনা গ্রুপ। বাজার থেকে ক্ষুদ্র সংগ্রহকারীদের মাধ্যমে প্লাস্টিকের বোতল ও অন্যান্য প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত উপকরণের কিছু অংশ গ্রুপটির নিজস্ব উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয়। অন্য কিছু ক্ষেত্রে এসব উপকরণ কাজে লাগাতে অন্যান্য কারখানাকেও সহায়তা করা হয়।
মোস্তফা কামাল বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে একদিকে ফেলে দেওয়া উপকরণকে উৎপাদনের কাজে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে, অন্যদিকে এ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ক্ষুদ্র সংগ্রহকারীদের জন্যও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যকর কাঠামো গড়ে তুলতে এ ধরনের সংগ্রহব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদারও সম্পর্ক রয়েছে। মেঘনা গ্রুপ ইউরোপে বড় আকারের জাম্বো ব্যাগ রফতানি করে। এসব ব্যাগের উৎপাদনে পুনর্ব্যবহৃত উপকরণ ব্যবহারের বিষয়ে কয়েক বছর ধরে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। ফলে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এখন শুধু পরিবেশ সুরক্ষার বিষয় নয়; আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এবং নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
মোস্তফা কামাল জানান, পুনর্ব্যবহৃত উপকরণ ব্যবহারের জন্য প্রতি টনে ২০ ডলারের বেশি প্রণোদনার কথাও বলা হয়েছে। গ্রুপটির কিছু পণ্যে পুনর্ব্যবহৃত উপাদান ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিশেষ করে সিমেন্টসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত পুরোনো ব্যাগ সংগ্রহ করে পরিষ্কার করা হয়। এরপর সেগুলো থেকে প্লাস্টিকের দানা তৈরি করে নতুন ব্যাগ উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়।
এ প্রক্রিয়ায় পুরোনো ব্যাগের উপকরণ আবার উৎপাদনচক্রে ফিরে আসে। ফলে নতুন প্লাস্টিকের কাঁচামালের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া ব্যাগের বর্জ্যও পুনর্ব্যবহারের আওতায় আসে।
ইউরোপের বাজারে রফতানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ পুনর্ব্যবহৃত উপাদান ব্যবহারের শর্ত রয়েছে বলে জানান মোস্তফা কামাল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো পণ্যে পুনর্ব্যবহৃত উপাদানের ব্যবহার ২০ শতাংশের পরিবর্তে ৩০ শতাংশে উন্নীত করতে পারলে আরও বেশি প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। মেঘনা গ্রুপ এ সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।
এ ধরনের উদ্যোগে উৎপাদনপ্রতিষ্ঠানের সামনে দুটি লক্ষ্য একসঙ্গে কাজ করে। প্রথমত, ক্রেতাদের পরিবেশগত শর্ত পূরণ করে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখা। দ্বিতীয়ত, ব্যবহৃত উপকরণ পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে এনে কাঁচামালের ব্যবহার আরও দক্ষ করা। তবে এ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ভর করে পুনর্ব্যবহৃত উপকরণের গুণমান, সংগ্রহব্যবস্থা এবং উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় সেগুলোর উপযোগিতার ওপর।
ধানের তুষের ব্যবহার বাড়াচ্ছে শিল্পের দক্ষতা
কৃষিভিত্তিক শিল্পেও অব্যবহৃত উপকরণ কাজে লাগানোর উদ্যোগ রয়েছে মেঘনা গ্রুপের। মোস্তফা কামাল জানান, আন্তর্জাতিক অর্থায়নে তাঁদের একটি রাইস মিল রয়েছে, যার উৎপাদনক্ষমতা প্রায় এক হাজার টন। সেখানে ধানের তুষ থেকে তেল আহরণ করা হয়। তেল আহরণের পর অবশিষ্ট অংশ পোলট্রি খাদ্যসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়।
ধানের তুষ ধান প্রক্রিয়াজাতকরণের একটি উপজাত। যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে এর বড় অংশ অব্যবহৃত থেকে যায়। কিন্তু তুষ থেকে তেল আহরণ এবং অবশিষ্ট অংশকে অন্য কাজে লাগানোর মাধ্যমে একই কাঁচামাল থেকে একাধিক ধরনের ব্যবহারিক মূল্য পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
মোস্তফা কামাল বলেন, আগে ধানের তুষের একটি বড় অংশ অব্যবহৃত থাকত। এখন বিশেষ করে বড় ও স্বয়ংক্রিয় রাইস মিলগুলোতে এসব উপকরণের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে বর্জ্য হিসেবে পরিবেশে ফেলে দেওয়ার পরিমাণ কমানো সম্ভব হচ্ছে।
এ ধরনের উদ্যোগ কৃষিভিত্তিক শিল্পে সম্পদের দক্ষ ব্যবহারের সুযোগ বাড়ায়। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যে উপকরণ একসময় অব্যবহৃত থাকত, তা এখন তেল আহরণ ও পোলট্রি খাদ্য উৎপাদনের মতো কাজে যুক্ত হচ্ছে। এতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চাপ কমানোর পাশাপাশি শিল্পের জন্য অতিরিক্ত মূল্য সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হয়।
টেকসই উন্নয়ন ব্যবসায়িক দর্শনের অংশ
মোস্তফা কামালের বক্তব্যে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও টেকসই উন্নয়নকে দীর্ঘমেয়াদি শিল্প পরিচালনার অংশ হিসেবে দেখার বিষয়টি উঠে এসেছে। তাঁর মতে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে হলে শুধু সরকার বা পরিবেশ নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে চলবে না। ব্যক্তি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পোদ্যোক্তাদেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
মেঘনা গ্রুপের কাগজ ও কার্টন পুনর্ব্যবহার, প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ এবং ধানের তুষের ব্যবহার বাড়ানোর কার্যক্রমে এ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন রয়েছে। এসব উদ্যোগে উৎপাদনের বাইরে থাকা উপকরণকে আবার শিল্পের কাজে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা এবং পুনর্ব্যবহৃত উপাদান ব্যবহারের শর্ত পূরণের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
শিল্পের সম্প্রসারণের সঙ্গে কাঁচামাল, জ্বালানি ও পরিবেশগত ব্যবস্থাপনার চাপও বাড়ে। এ অবস্থায় উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বর্জ্য কমানো, অবশিষ্ট উপকরণের ব্যবহার বাড়ানো এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি গ্রহণ শিল্পের দক্ষতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ ধরনের কার্যক্রমের সুফল বিস্তৃত করতে প্রয়োজন কার্যকর সংগ্রহব্যবস্থা, উপকরণের মান নিশ্চিত করা এবং পুনর্ব্যবহারের উপযোগী প্রযুক্তিতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ।
মোস্তফা কামালের ভাষ্য অনুযায়ী, টেকসই উন্নয়ন মেঘনা গ্রুপের দর্শনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নতুন শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা থেকে উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে জলবায়ু, পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রার বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিল্পের অগ্রগতি ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার এ প্রচেষ্টায় সার্কুলার ইকোনমি, রিসাইক্লিং এবং সম্পদের দক্ষ ব্যবহারকে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর, পুনর্ব্যবহৃত উপকরণ দিয়ে নতুন পণ্য তৈরি এবং কৃষিজ উপজাতের ব্যবহার বাড়ানোর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে মেঘনা গ্রুপ উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় সম্পদের পুনর্ব্যবহার জোরদার করছে। প্রতিষ্ঠানটির এসব কার্যক্রমের বিস্তার ও কার্যকারিতা ভবিষ্যতে আরও বাড়লে শিল্পের কাঁচামাল ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ওপর বর্জ্যজনিত চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।![]()