বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ এতে সই করেন।
সমঝোতায় শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবহারের পাশাপাশি পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা, সেফগার্ডস ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের সর্বোচ্চ মান অনুসরণের বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অবস্থানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। উভয় দেশই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সেফগার্ডস চুক্তি ও অতিরিক্ত প্রটোকলের আওতায় রয়েছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিরও (এনপিটি) পক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের ৩০ জুলাই থেকে ১ আগস্টের বাংলাদেশ সফরের সময় বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার বিষয়ে নতুন সমঝোতা স্মারকের প্রস্তাবটি সামনে আসে। গরের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বৈঠকে বিষয়টি আলোচিত হওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও তার বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
এরপর ৩ আগস্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে দেখছে। বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ ও অর্থনীতির জন্য উপকারী হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
নতুন সমঝোতাটি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণের উদ্যোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাংলাদেশ এরই মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে এবং পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগও চলছে। এর আগে মে মাসে দুই দেশ জ্বালানি খাতে বৃহত্তর কৌশলগত সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছিল। নতুন চুক্তিটি বিশেষভাবে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা ও শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবহারে কেন্দ্রীভূত।![]()