সমুদ্রপথে অস্থিরতা, এশিয়াজুড়ে তেলের সরবরাহে চাপ
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ লোহিত সাগরে নতুন করে নিরাপত্তা সংকট দেখা দেওয়ায় এশিয়ার জ্বালানি বাজার আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। হামলা ও অবরোধের আশঙ্কায় তেলবাহী জাহাজের চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডসহ এশিয়ার প্রধান তেল আমদানিকারক দেশগুলো বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহে জোর দিচ্ছে।
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অনেক এশীয় দেশের মজুত এখন এক মাসের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছে। কয়েকটি দেশের কাছে অতিরিক্ত কোনো কৌশলগত মজুতও নেই। এমন পরিস্থিতিতে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া জ্বালানি খাতে কয়েক কোটি ডলার ভর্তুকি দিচ্ছে। তবে বর্তমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে সরকারি সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে সুয়েজ খাল হয়ে ইউরোপ-এশিয়া রুটে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এখন আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ পথ ব্যবহার করছে। এতে পরিবহন সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি জাহাজ ভাড়া, বীমা ব্যয় ও অন্যান্য পরিচালন খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব অতিরিক্ত ব্যয় শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুয়েজ খাল বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। এটি বন্ধ বা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে। বড় আকারের অপরিশোধিত তেলের ট্যাংকারগুলো সুয়েজ খাল অতিক্রম করতে না পারলে বিকল্প দীর্ঘ সমুদ্রপথ ব্যবহার করতে হয়, যা পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি যাত্রা দীর্ঘ হওয়ায় একই সংখ্যক জাহাজ দিয়ে আগের মতো সরবরাহ বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় অনেক আমদানিকারক দেশ রাশিয়াসহ বিকল্প উৎস থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সংগ্রহের উদ্যোগ জোরদার করেছে। একই সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখতে বিভিন্ন দেশের সরকার ও জ্বালানি কোম্পানিগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগরের বর্তমান অস্থিরতা দ্রুত নিরসন না হলে এশিয়ার জ্বালানি বাজারে মূল্য অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব শুধু তেলের বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পরিবহন ব্যয়, উৎপাদন খরচ এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।