চলতি বছর সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক শ্রমবাজারে পরিণত হয়েছে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫৫ হাজার ৬১৪ জন বাংলাদেশি কর্মী সিঙ্গাপুরে গেছেন। এ সময়ে বিদেশে যাওয়া মোট ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৬৩৭ কর্মীর ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশই সিঙ্গাপুরমুখী।
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সিঙ্গাপুরের নির্মাণ খাত দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র। দেশটির অবকাঠামো ও নির্মাণ খাতে চাহিদা বাড়ায় চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তবে ভবিষ্যতে বিদেশি কর্মী নিয়োগে সিঙ্গাপুরের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশটির নীতিনির্ধারকেরা বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা ও দক্ষতার কাঠামো নিয়ে নতুনভাবে কাজ করছেন। ফলে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে দক্ষতার ওপর বেশি গুরুত্ব আসতে পারে।
প্রবাসী কর্মীদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে অভিবাসন ব্যয়। সিঙ্গাপুরগামী কিছু কর্মীর ক্ষেত্রে মোট অভিবাসন ব্যয় ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছানোর তথ্য পাওয়া গেছে। এর ফলে বিদেশে গিয়ে আয় করার আগেই কর্মীদের বড় অঙ্কের ঋণ বা আর্থিক দায় তৈরি হচ্ছে।
এদিকে সিঙ্গাপুরে যাওয়া কর্মীদের একটি অংশ নতুন অভিবাসী নয়; আগেও দেশটিতে কাজ করা কর্মীদের অনেকে আবার সেখানে যাচ্ছেন। ফলে শুধু কর্মী পাঠানোর সংখ্যা দিয়ে নতুন কর্মসংস্থানের প্রকৃত চিত্র পুরোপুরি বোঝা যায় না।
বাংলাদেশের জন্য সিঙ্গাপুরের শ্রমবাজারের গুরুত্ব শুধু কর্মসংস্থানেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়ন, অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং বৈধ চ্যানেলে কর্মী পাঠানোর সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে উঠছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিঙ্গাপুরের বাজারে কর্মীর চাহিদা থাকলেও ভবিষ্যতে কম দক্ষ শ্রমিকের পরিবর্তে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মীদের চাহিদা বাড়তে পারে। তাই বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার মান উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।![]()