ঢাকা, ১৯ জুলাই: দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের দক্ষতা উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সিরাজগঞ্জে উদ্বোধন করা হয়েছে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের নতুন তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টার। বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, এই কেন্দ্র তাঁতশিল্পের আধুনিকায়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শনিবার (১৮ জুলাই) সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের উদ্যোগে নির্মিত কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। উদ্বোধন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। নতুন এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তাঁতিদের দক্ষতা বাড়িয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা থেকে বৃহৎ ব্যবসায়ীতে পরিণত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং দেশের অর্থনীতিতে তাঁদের অবদান আরও বাড়াবে।
অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, সিরাজগঞ্জ বাংলাদেশের তাঁতশিল্পের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। এ অঞ্চলে প্রায় ৫০ হাজার তাঁতি এবং লক্ষাধিক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত। নবনির্মিত কেন্দ্রটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়; এটি আধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবনী নকশা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জের লুঙ্গি ও গামছা ইতোমধ্যে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। এই স্বীকৃতিকে কাজে লাগিয়ে পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন, আধুনিক নকশা, শক্তিশালী ব্র্যান্ডিং এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি জামদানি, টাঙ্গাইলের শাড়ি, শাহজাদপুরের শাড়ি ও সিরাজগঞ্জের গামছাসহ দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতপণ্যের বৈশ্বিক পরিচিতি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, তাঁতিদের জন্য সহজ শর্তে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি তাঁতিকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। এছাড়া প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সিরাজগঞ্জ সদর, কামারখন্দ, কাজীপুর ও তাড়াশ উপজেলার তাঁতিদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৮৭ সালে বেসিক সেন্টার, সিরাজগঞ্জ প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে এর আওতায় ৩৫টি প্রাথমিক এবং একটি মাধ্যমিক তাঁতি সমিতি রয়েছে। এ পর্যন্ত কেন্দ্রটির মাধ্যমে ২ হাজার ২৮২ জন তাঁতিকে প্রায় ১২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরীফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান, সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি উপস্থিত ছিলেন।