নিজস্ব প্রতিবেদক
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল আগামী সেপ্টেম্বরে ঘোষণা করা হতে পারে এবং ভোটগ্রহণ শুরু হতে পারে নভেম্বরের শেষ দিকে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচন আয়োজনের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে; এখন তফসিল ঘোষণাই বাকি।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই তফসিল ঘোষণার চেষ্টা চলছে। তবে ভোটের সময় নির্ধারণে দুর্গাপূজা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা এবং আইনগত সময়সীমাসহ কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, আইন অনুযায়ী এ বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে হবে। সে কারণে কমিশনের সচিবকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিতে এবং তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমন্বয়ের কাজও শুরু করতে সংশ্লিষ্ট কমিশনারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিইসি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা দ্রুত শেষ করা গেলে নভেম্বরের শেষ দিকে ভোট শুরু করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করবে নির্বাচন কমিশন। তিনি আরও বলেন, সময়ের পরিসর খুবই সীমিত। এরপর রমজান, ঈদুল আজহা এবং বর্ষাকাল চলে আসবে। তাই সব দিক বিবেচনা করেই নির্বাচনসূচি চূড়ান্ত করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের বিষয়েও কমিশন কাজ করছে। সিইসি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে ওই উপনির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও উপনির্বাচনের সময়সূচির মধ্যে যেন সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানান, যেসব পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে বা আইনগতভাবে আগে নির্বাচন দেওয়া বাধ্যতামূলক, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ২০২১ সালের ১০ জুন প্রথম ধাপে নির্বাচিত ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদও এ তালিকায় রয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকার নির্বাচন শুকনো মৌসুমে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে সিইসির নেতৃত্বে চার নির্বাচন কমিশনার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠক শেষে সিইসি জানান, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পরিচালনায় রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা চেয়েছে কমিশন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় কমিশনের প্রশংসা করেছেন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সীমিত পরিসরে ডাকযোগে ভোটের ব্যবস্থা রাখার সিদ্ধান্তও নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভবিষ্যতে এ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও ম্যানুয়াল প্রস্তুতের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সিইসি।![]()