বাংলাদেশের বস্ত্র, ওষুধ, অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি, লজিস্টিকস ও ভোগ্যপণ্য খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখছেন স্পেনের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। মাদ্রিদে আয়োজিত এক ব্যবসায়ী সেমিনারে বাংলাদেশের বাজার ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন তাঁরা।
‘বাংলাদেশ: এ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ইন দ্য গ্লোবাল ইকোনমি’ শীর্ষক সেমিনারটি বৃহস্পতিবার মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্পেনের ব্যবসায়ী নেতারা বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে সম্ভাব্য অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
মাদ্রিদ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি অ্যাঞ্জেল আসেনসিও বাংলাদেশের বাজার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে দেশটিকে এশিয়ার উদীয়মান গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশ টেকসই প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য অংশীদার। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউরো ছিল বলে সেমিনারে উল্লেখ করা হয়। সবুজ বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
সেমিনারে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরাও ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বিশেষ করে তৈরি পোশাকের বাইরে নতুন শিল্প ও সেবা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সবুজ অর্থনীতিকে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের শিল্পায়ন, বড় অভ্যন্তরীণ বাজার এবং আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মাদ্রিদ চেম্বার অব কমার্স আগামী নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ বর্তমানে ইউরোপীয় বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানির পাশাপাশি ওষুধ, চামড়া, কৃষিপণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তিসেবা সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে। স্পেনের ব্যবসায়ীদের আগ্রহ তাই শুধু নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনাই নয়, ইউরোপের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগও তৈরি করতে পারে।![]()