মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পদত্যাগ করতে পারেন—এমন গুঞ্জন নাকচ করেছে হোয়াইট হাউজ। দুই মন্ত্রীর পদত্যাগের খবরকে ‘ভুয়া খবর’ বলে অভিহিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। খবর বিবিসির।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় ভূমিকার কারণে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের ওপর চাপ রয়েছে। রিপাবলিকানদের বড় নির্বাচনী পরাজয়ের পেছনেও ইরান যুদ্ধকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিদায়ী এক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য আগামী সপ্তাহের মধ্যেই হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাবে ভোট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এর মধ্যে এক ভিডিও বার্তায় নিজের কর্মকাণ্ডের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন হেগসেথ। তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া উদ্যোগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারা আমাকে আক্রমণ করে। তারা আমাদের আক্রমণ করে, কারণ আমরা কাজ করতে সক্ষম। এটা কাজ করবে না। আমরা পিছু হটব না।’
অন্যদিকে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে দায়িত্ব ছাড়ার কথা ভাবছেন—এমন খবর অস্বীকার করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তাঁর হয়ে কাজ করাই সব সময়ের পরিকল্পনা।
হোয়াইট হাউজ ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের পর রুবিওর সরে যাওয়ার খবর নাকচ করেছে।
এদিকে এবিসি নিউজকে টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হেগসেথকে নিয়ে তিনি ফোন পেয়েছেন। তবে তাঁকে মন্ত্রিসভায় রাখার ‘পুরো ইচ্ছা’ তাঁর রয়েছে। পরে হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘পিট হেগসেথ অসাধারণ কাজ করেছেন।’
হেগসেথের সাফল্য তুলে ধরতে গিয়ে ট্রাম্প জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার এবং ইরান যুদ্ধ পরিচালনার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেগসেথ ছাড়াও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন কিংবা সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবতে পারেন ট্রাম্প। আট মাস আগে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধে সামরিক নির্দেশনা ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এই দুই কর্মকর্তার।![]()