পৃথিবীর কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সুরক্ষা দিতে এসব অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। তবে অস্ত্রগুলোর ধরন, সংখ্যা ও কার্যক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি পেন্টাগন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওয়াশিংটনে এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার সম্মেলনে মেইঙ্ক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখন কক্ষপথে এমন অস্ত্র রয়েছে, যা শত্রুপক্ষের আক্রমণ থেকে যৌথ সামরিক বাহিনীকে রক্ষা করতে সক্ষম।
আল-জাজিরার ১৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এসব অস্ত্রের মধ্যে প্রতিপক্ষের উপগ্রহের যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটানোর মতো বৈদ্যুতিন যুদ্ধব্যবস্থা থাকতে পারে। তবে সরাসরি উপগ্রহ ধ্বংস করতে সক্ষম অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণার পর চীন মহাকাশকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করা এবং অস্ত্র প্রতিযোগিতা বাড়ানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে। রাশিয়াও মহাকাশকে অস্ত্রমুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
১৯৬৭ সালের আন্তর্জাতিক মহাকাশ চুক্তি অনুযায়ী, পৃথিবীর কক্ষপথে পারমাণবিক অস্ত্র ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ। তবে প্রচলিত অস্ত্রের সব ধরনের মোতায়েনের ওপর এ চুক্তিতে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণা মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতাকে আরও জোরালো করতে পারে। কারণ, আধুনিক সামরিক যোগাযোগ, গোয়েন্দা নজরদারি ও নেভিগেশন ব্যবস্থা অনেকাংশেই উপগ্রহনির্ভর।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্স
![]()