সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজের টয়লেট থেকে ৫০টি স্বর্ণবার উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট ওজন প্রায় ৫ দশমিক ৮৩২ কেজি। কাস্টমসের হিসাবে এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১১ কোটি টাকা।
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৫৮৫ ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর উড়োজাহাজটিতে তল্লাশি শুরু হয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তল্লাশির পর উড়োজাহাজের একটি টয়লেটের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো অবস্থায় স্বর্ণবারগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, উদ্ধার করা প্রতিটি স্বর্ণবারের ওজন ১০ তোলা। ৫০টি বারে মোট স্বর্ণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০০ তোলা, যা প্রায় ৫ দশমিক ৮৩২ কেজি। প্রাথমিক হিসাবে উদ্ধার করা স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রায় ১১ কোটি টাকা।
তল্লাশির সময় স্বর্ণগুলো কোনো যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে উদ্ধার হয়নি। উড়োজাহাজের টয়লেটের ভেতরে সেগুলো লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। ফলে চোরাচালানের এ ঘটনায় উড়োজাহাজের ভেতরে স্বর্ণগুলো কীভাবে পৌঁছেছে, কারা সেখানে তা রেখে গেছে এবং পরে বিমানবন্দর থেকে স্বর্ণ বের করে নেওয়ার পরিকল্পনায় কারা জড়িত ছিল—এসব বিষয় এখন তদন্তের আওতায় এসেছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, উড়োজাহাজে শতাধিক স্বর্ণবার থাকার তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে তল্লাশিতে ৫০টি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি স্বর্ণবারের কোনো অস্তিত্ব বা সেগুলো অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের উৎস এবং পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে উড়োজাহাজের টয়লেটের মতো নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থানে এত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ কীভাবে রাখা সম্ভব হলো, সে বিষয়েও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।![]()