ভারতীয় রুপির বিপরীতে গত এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি টাকা। ২০২৫ সালের শুরুতে এক ভারতীয় রুপি কিনতে যেখানে প্রায় ১ টাকা ৩৭ থেকে ১ টাকা ৪০ পয়সা লাগত, সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে তা নেমে এসেছে প্রায় ১ টাকা ২৭ পয়সায়। অর্থাৎ রুপির বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে প্রায় ৯ থেকে ১০ শতাংশ। একই সময়ে দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছরের অবমূল্যায়নের ধারা পেরিয়ে ডলারের বিপরীতেও শক্তিশালী হওয়ার নতুন সংকেত দিয়েছে টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, “সাড়ে পাঁচ বছরের ধারাবাহিক অবমূল্যায়নের পর ডলারের বিপরীতে প্রথমবার ঘুরে দাঁড়ানোর সংকেত দিয়েছে টাকা।”
টাকার এই পরিবর্তনের পেছনে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের উন্নতি গুরুত্বপূর্ণ। রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং রিজার্ভও বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ৭.৭০২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩.৮ শতাংশ বেশি।
তবে রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী হওয়ার পুরো কৃতিত্ব বাংলাদেশের মুদ্রার নয়। একই সময়ে ভারতীয় রুপি ডলারের বিপরীতে প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ দুর্বল হয়েছে। অর্থাৎ একদিকে টাকার তুলনামূলক স্থিতিশীলতা, অন্যদিকে রুপির দুর্বলতা—দুইয়ের সম্মিলিত প্রভাবেই রুপি-টাকা বিনিময় হারে বড় পরিবর্তন এসেছে।
এর সরাসরি সুবিধা পাচ্ছেন ভারতে চিকিৎসা, শিক্ষা ও পর্যটনে যাওয়া বাংলাদেশিরা। এক লাখ রুপি কিনতে এখন আগের তুলনায় প্রায় ১৩ হাজার টাকা কম লাগছে। রুপিতে নিষ্পত্তি হওয়া ভারতীয় আমদানিতেও ব্যবসায়ীরা সুবিধা পেতে পারেন। তবে বাংলাদেশের সব আমদানি রুপিতে হয় না, ফলে এই সুবিধা সব পণ্যে সমানভাবে কার্যকর হবে না।
অন্যদিকে শক্তিশালী টাকা রফতানি খাতে কিছুটা চাপ তৈরি করতে পারে। ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের দাম তুলনামূলক বেড়ে যেতে পারে, আবার ভারতীয় পণ্য সস্তা হলে দেশীয় উৎপাদকদের প্রতিযোগিতা বাড়বে। ফলে বর্তমান বিনিময় হার ভোক্তা ও আমদানিকারকদের জন্য স্বস্তির হলেও রফতানিকারক ও কিছু স্থানীয় শিল্পের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে রুপির বিপরীতে টাকার উত্থানকে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা যায়। তবে এর স্থায়িত্ব নির্ভর করবে রেমিট্যান্স, রফতানি আয়, আমদানি চাহিদা, রিজার্ভ ও বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য কতটা স্থায়ীভাবে শক্তিশালী থাকে তার ওপর। সাড়ে পাঁচ বছরের অবমূল্যায়নের পর টাকার এই ঘুরে দাঁড়ানো তাই স্বস্তির খবর হলেও এর প্রকৃত মূল্যায়ন করতে হবে এর স্থায়িত্ব দিয়ে।![]()