রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ২৮৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে যাচাই-বাছাই শেষে জাসদের নেতা-কর্মীদের ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
শনিবার বিকেল ৩টার দিকে জাসদের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা চলাকালে মতিঝিল অঞ্চলের পুলিশ কার্যালয়টিতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিক নেতাকেও আটক করে বিভিন্ন থানায় নেওয়া হয়।
ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের সহকারী কমিশনার সাকিবুল আলম ভূঁইয়া রাতে জানান, আটক ২৮৯ জনের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। যাঁরা জাসদের নেতা-কর্মী হিসেবে শনাক্ত হবেন, তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হবে। অন্যদের বিষয়ে তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।![]()
অভিযানের কারণ হিসেবে পুলিশ দাবি করেছে, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা জাসদ কার্যালয়ে জড়ো হয়েছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে তারা অভিযান চালায়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কার্যালয়ের ভেতরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানও শোনা গেছে।
তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে জাসদ। দলের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিনিধি সভাটি ছিল পূর্বনির্ধারিত এবং ডিএমপি কমিশনার, মতিঝিল জোনের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) ও পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করেই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। জাসদের দাবি, দলটি নিষিদ্ধ নয় এবং সভায় অংশগ্রহণকারীরা সবাই জাসদের নেতা-সদস্য।![]()
জাসদের আরও অভিযোগ, সভা চলাকালে যুবদলের কয়েক শ নেতা-কর্মী পুলিশের উপস্থিতিতেই কার্যালয়ে প্রবেশ করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের শারীরিকভাবে আঘাত করেন। এরপর পুলিশ পুরো কার্যালয় ঘেরাও করে নেতাকর্মীদের আটক করে পল্টন, শাহজাহানপুরসহ বিভিন্ন থানায় নিয়ে যায়। জাসদের ভাষ্য, সভার আড়ালে আওয়ামী লীগের বৈঠক হয়েছে—এ ধরনের তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
দলের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন জানান, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্যও রয়েছেন। তাঁর দাবি, আবু জাফর সূর্য জাসদের সমর্থক হিসেবে প্রতিনিধি সভায় উপস্থিত ছিলেন।![]()