ব্যাংক খাত সংস্কার, স্বাস্থ্য, নদীভাঙন রোধ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিমানবন্দর সম্প্রসারণসহ ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ব্যাংক খাত সংস্কারের ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ (এফএসএসপি-২) উল্লেখযোগ্য। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ১ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা। এর আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো, রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের আমানত সংরক্ষণব্যবস্থায় সফটওয়্যার স্থাপন করা হবে। সার্ভার ও যোগাযোগপ্রযুক্তির সরঞ্জাম কিনতেও ৭০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করা হবে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, ব্যাংক ব্যবস্থার তদারকি শক্তিশালী করা এবং সাইবার আক্রমণ থেকে আর্থিক খাতকে সুরক্ষিত করতে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। রিজার্ভ চুরি ও অর্থপাচারের মতো ঘটনা প্রতিরোধে নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি প্রযুক্তিব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে।
একনেকে অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ১০ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৩৮২ কোটি টাকা দেওয়া হবে। প্রকল্পসহায়তা হিসেবে পাওয়া যাবে ৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকা।
অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে যক্ষ্মা, এইচআইভি-এইডস ও ম্যালেরিয়া মোকাবিলায় সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা জোরদার, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন এবং বিভিন্ন এলাকায় নদীর তীর সংরক্ষণ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ।
এ ছাড়া মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ীর গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, রংপুর বিভাগের সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ, তিন সিটির ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণের দ্বিতীয় পর্যায়, ফেনীর সোনাগাজীতে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ এবং তিন পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্পও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বারবার যাতে প্রকল্পের সময় বাড়াতে না হয়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। যৌক্তিক কারণে সময় বাড়ানো হলে এর জবাবদিহি করতে হবে। প্রকল্প গ্রহণের আগে যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাইয়েরও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারের পাওনা ২৯৪ কোটি টাকা। এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ, কার্গো ব্যবস্থাপনা এবং কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যয়ও রয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর টার্মিনাল উদ্বোধনের কথা রয়েছে।
পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার বলেন, প্রকল্পটিতে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবস্থা ছিল না। পরে সেটি প্রকল্পে যুক্ত করা হয়েছে।![]()