বুধবার, অক্টোবর ৭, ২০২৬
  • হোম
  • বিশ্ব
  • বাংলাদেশ
  • যুক্তরাষ্ট্র
  • নিউইয়র্ক
  • বিশ্ব
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • খেলা
  • চাকরি
  • মতামত
  • অন্যান্য
No Result
View All Result
No Result
View All Result
  • হোম
  • বিশ্ব
  • বাংলাদেশ
  • যুক্তরাষ্ট্র
  • নিউইয়র্ক
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • খেলা
  • চাকরি
  • মতামত
  • অন্যান্য
প্রচ্ছদ জাতীয়

চলচ্চিত্রের জৌলুস ফিরিয়ে আনতে দর্শকের রুচি বুঝতে হবে: আহসান উল্লাহ মনি

ইউএসএ বাংলা ডেস্ক - ইউএসএ বাংলা ডেস্ক
৭ অক্টোবর ২০২৬
in জাতীয়, বিনোদন
Reading Time: 1 min read
A A
0
চলচ্চিত্রের জৌলুস ফিরিয়ে আনতে দর্শকের রুচি বুঝতে হবে: আহসান উল্লাহ মনি

লাল জ্যাকেট, পরিপাটি সাজ, প্রাণবন্ত উপস্থিতি। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে জীবনের অনেক কিছু বদলেছে, বদলেছে চলচ্চিত্রের ভাষা, প্রেক্ষাগৃহের চেহারা, দর্শকের অভ্যাসও। কিন্তু আহসান উল্লাহ মনির উপস্থিতিতে সেই পুরোনো রঙিন জগতের ছাপ এখনো স্পষ্ট। কথা বলার সময় তাঁর চোখেমুখে যে উচ্ছ্বাস, তাতে মনে হয় বয়স যেন তাঁর কাছে কোনো স্থির সংখ্যা নয়; বরং আরও কিছু করার সুযোগ। সম্প্রতি তিনি এসেছিলেন চ্যানেল আইয়ের জনপ্রিয় এবং টেলিভিশন সেক্টরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান তারকা কথনে। বলেছেন তাঁর একান্ত কিছু কথা।

নিজেকে তিনি এখনো চলচ্চিত্রের মানুষ হিসেবেই দেখতে চান। বলেন, “আমি সিনেমা জগতের মানুষ। সবসময়ে গ্ল্যামার নিয়ে কাজ করেছি। নিজেকেও তাই সবসময় কালারফুল, ব্রাইট রাখার চেষ্টা করি। নিজের কাছেও ভালো লাগে এই ব্যাপারটা।”

একটি পরিচয়ের মধ্যে তাঁকে আটকে রাখা কঠিন। চলচ্চিত্র প্রযোজনা, নির্মাণ, প্রেক্ষাগৃহ ব্যবসা, হোটেল, পর্যটন—বহু ক্ষেত্রেই তাঁর বিচরণ। নিজের জীবনকে তিনি যেন দেখেন কাজের পর কাজ যোগ করে তৈরি হওয়া একটি দীর্ঘ চলচ্চিত্র হিসেবে। আর সেই চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় অধ্যায় নিঃসন্দেহে সিনেমা।

চলচ্চিত্রে তাঁর প্রবেশও ছিল বয়সের তুলনায় অস্বাভাবিক রকমের দ্রুত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকেই চলচ্চিত্রের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ। ১৯৬৭ সাল নাগাদ তিনি চলচ্চিত্রে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। পারিবারিক পরিবেশও এ পথে তাঁকে টেনে আনে। বড় বোনের স্বামী চলচ্চিত্র প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর কাছ থেকেই চলচ্চিত্রের ব্যবসা, নির্মাণ আর শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার নানা অভিজ্ঞতা নিতে শুরু করেন।

“চলচ্চিত্রে মানুষ কখন ইন করে, এটা বলা মুশকিল। এটা বংশে যদি চলচ্চিত্র কেউ বানায়, অটোমেটিক জড়াইয়া যাইতে হয়। যে চলচ্চিত্র আমাদের হইতেছে, জড়াইয়া যাই,”—নিজের শুরুর গল্প বলতে গিয়ে বলেন তিনি।

শুধু প্রযোজনাই নয়, চলচ্চিত্রের নানা কাজে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। স্বাধীনতার আগে ও পরে চলচ্চিত্রের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ পথচলায় একসময় অভিনয়ও করেছেন। তাঁর স্মৃতিতে উঠে আসে ‘ময়ূরপঙ্খী’, ‘নয়ন তারা’, ‘ময়নামতি’, ‘মধুমিলন’, ‘অবুঝ মন’, ‘কথা দিলাম’-এর মতো চলচ্চিত্রের নাম। এসব ছবির সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর তরুণ বয়স, পুরোনো ঢাকার চলচ্চিত্র-সংস্কৃতি এবং বাংলা সিনেমার এক উজ্জ্বল সময়।

‘ময়ূরপঙ্খী’-এর প্রসঙ্গ উঠলে তিনি মনে করেন, সেটি তাঁর চলচ্চিত্র জীবনের শুরুর দিকের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। হাসান ইমাম ও সুলতানা জামানের মতো শিল্পীর নামও উঠে আসে তাঁর স্মৃতিচারণে। পরে শাবানা, ববিতা, রাজ্জাক, কবরী, উজ্জ্বলসহ তৎকালীন জনপ্রিয় শিল্পীদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

তবে চলচ্চিত্রের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেবল প্রযোজকের জায়গায় সীমাবদ্ধ ছিল না। কাকরাইলে রাজমণি ও রাজিয়া সিনেমা হল নির্মাণের মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও বড় পরিসরে যুক্ত হন। স্ত্রী রাজিয়ার নাম এবং নিজের নাম ‘মনি’ মিলিয়েই ‘রাজমণি’ নামটি এসেছে—এই ব্যক্তিগত গল্পটিও তাঁর ব্যবসায়িক জীবনের সঙ্গে মিশে আছে।

রাজমণি সিনেমা হল তাঁর কাছে শুধু একটি প্রেক্ষাগৃহ ছিল না; ছিল চলচ্চিত্রকর্মীদের এক মিলনস্থল। নিচতলায় ছিল চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট মার্কেট, ছিল শিল্পী, প্রযোজক, পরিবেশক ও সংশ্লিষ্টদের আনাগোনা। তিনি বলেন, “রাজমণির সিনেমা হলে নিচের তলায় মার্কেট ছিল, চলচ্চিত্রের মার্কেট। এটা ছিল। অনেক প্রডিউসার, ডিস্ট্রিবিউটার আমার অফিসে ছিল। অনেক সময় জোর করে ধরেই কইছে, ‘আমার এই অভিনয়টা করে দিতে হবে।’ আমি তো সেজদা টাকা নিতাম না। এমনি ফ্রি করে দিতাম।”

এই জায়গাটিই তাঁকে চলচ্চিত্রের মানুষদের খুব কাছাকাছি নিয়ে যায়। শাবানা, ববিতা, কবরী, রাজ্জাকসহ তারকাদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল অনেকটা পারিবারিক। তাই পুরোনো দিনের চলচ্চিত্রের কথা বলতে গিয়ে তাঁর স্মৃতিতে শুধু ব্যবসা বা সিনেমার হিসাব আসে না; আসে মানুষ, সম্পর্ক আর অসংখ্য ছোট ছোট ঘটনা।

শুটিংয়ের একটি ঘটনা বলতে গিয়ে এখনো তাঁর কণ্ঠে হাসির রেশ ফুটে ওঠে। ১৯৭৪ সালের দিকে কাপ্তাইয়ে শাবানা ও রাজ্জাকের সঙ্গে শুটিং চলছিল। শাবানার হাতে ছিল একটি রুবির আংটি। কোনো একসময় সেটি এসে পড়ে তাঁর হাতে। শাবানা তা নিয়ে নেন। কিন্তু প্রায় ২০ বছর পর হঠাৎ তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আংটিটি তিনি কোথায় রেখেছেন।

“বিশ বছর পরে আমারে জিজ্ঞেস করতেছে, কই তোর আংটিটা? আমি কই, রুবি। কয়, এটা খুঁজে পাইতেছি না। আমি কইলাম, খোঁজার দরকার নাই। তোর বিয়ে হয়ে গেছে, বাচ্চা হয়ে গেছে, এখন লাভ কি বিশ বছর পরে জিজ্ঞেস করে, আংটিটা কই?”

এই স্মৃতির মধ্যে কোনো রোমান্স খুঁজে নিতে চান না তিনি। বরং তাঁর কাছে চলচ্চিত্রের সম্পর্কগুলো ছিল অনেক বিস্তৃত, অনেকটা পরিবারের মতো। তাঁর ভাষায়, “মা-ছেলে, স্বামী-স্ত্রী, তারপর ভাইবোন—পুরা সম্পর্কটাই ছিল। চলচ্চিত্রের মানুষের সঙ্গে আমার একটা বড় ধরনের মিলন ছিল।”

ববিতাকে ঘিরেও তাঁর স্মৃতিতে আছে একই ধরনের পারিবারিকতা। তাঁর ভবনে শিল্পীদের বাস করা, একে অন্যের বাসায় যাওয়া-আসা, নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক—সবকিছু মিলিয়ে যেন এক সময় চলচ্চিত্রের আলাদা একটি সামাজিক জগৎ তৈরি হয়েছিল। মজা করে তিনি বলেন, ভাড়া না দিলে শিল্পীদেরও ধমক দিতে হতো, আবার সেই মানুষগুলোই ছিলেন তাঁর আপনজনের মতো।

বাংলা চলচ্চিত্রের সেই সময়কে তিনি মনে করেন একটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কৃতির সময়। তখন দেশের সিনেমা হলের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও চলচ্চিত্রের ব্যবসা, দর্শক ও শিল্পী—সব মিলিয়ে ছিল প্রাণচাঞ্চল্য। তাঁর দাবি, তিনি যখন চলচ্চিত্র প্রদর্শনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হন, দেশে প্রায় ৩০০ সিনেমা হল ছিল। পরে তাঁর উদ্যোগ ও নেতৃত্বে সেই সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪০০-এ পৌঁছেছিল।

“আমি যখন চলচ্চিত্রের হাল ধরলাম, তখন দেশের সিনেমা হল ছিল ৩০০। ৩০০ হলের থেকে হয়ে গেল ১ হাজার ৪০০ হল। পুরো বাংলাদেশব্যাপী,” বলেন তিনি।

সেই সময়ের নায়কদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়দের কথা উঠলে শাবানা, ববিতা ও রাজ্জাকের নাম আলাদা করে বলেন তিনি। “শাবানা, ববিতা অ্যান্ড রাজ্জাক—তিনজনে কম্পিটিশনে চলতো। উজ্জ্বলরাও ছিল, তবে একটু নিচের গ্রেডে।”

তখনকার দর্শকও ছিল আলাদা। কোন শিল্পীকে কোন শ্রেণির মানুষ বেশি পছন্দ করত, সেটিও চলচ্চিত্রের ব্যবসায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠত। তাঁর ভাষায়, “ঘরের মহিলারা শাবানা দেখতো। ইয়াং ছেলেপেলে ববিতারে দেখতো। ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রীরা ববিতারে দেখতো। আর একটু বয়স্ক হলে শাবানা পছন্দ করতো।”

এই জায়গা থেকেই তিনি আজকের চলচ্চিত্রের সংকটকে দেখতে চান। তাঁর মতে, তারকা দিয়ে সিনেমা তৈরি হয় না; সিনেমা তৈরি হয় গল্প, চিত্রনাট্য, সংলাপ, সঙ্গীত, অভিনয় ও পরিচালনার সমন্বয়ে। একটি জনপ্রিয় মুখকে পর্দায় দেখালেই দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে টানা যায় না।

“খালি শাকিব খান নিয়্যা পিছনে পিছনে ঘুরবো—এভাবে তো হবে না। শাকিব খানের ছবি তো চলে না। কারণ ওরে দেখাইলে লোক হইবো না। ওর থেকে কার্যকলাপ, ডায়লগ লেখতে হবে। গল্প লিখতে হবে। ডিরেকশন ভালো হতে হবে।”

তার কথার মূল জায়গাটি আসলে আরও গভীরে। তিনি মনে করেন, একজন চলচ্চিত্র পরিচালক কেবল কারিগরি কর্মী নন; তিনি একজন শিক্ষক। সমাজকে দেখবেন, মানুষকে বুঝবেন, দর্শকের মানসিকতা পড়বেন, তারপর সেই জ্ঞানকে পর্দার ভাষায় রূপ দেবেন।

“চলচ্চিত্রের ডিরেক্টর হল একজন শিক্ষক। ওই শিক্ষকের বইটা—বইয়ের পাতা থেকে এটা নিয়ে যাবে পর্দায়। এটার জন্য টেকনিক্যাল জ্ঞান লাগে। শিক্ষা লাগে। ভাষার জ্ঞান লাগে।”

তাঁর মতে, চলচ্চিত্র নির্মাণ শিখতে শুধু কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নেওয়াই যথেষ্ট নয়। বাস্তব নির্মাণ প্রক্রিয়ার ভেতরে ঢুকতে হবে। “ফিল্মের উপরে পড়া নাই, এমনে ইউনিভার্সিটি থেকে যে কোনো সাবজেক্টে পাস করবেন। কিন্তু পরে সিনেমার ডিরেক্টরের সঙ্গে অ্যাসিস্টেন্ট করবেন। পাঁচ বছর। তারপরে আপনার ফিল্ম বানাইয়া বুঝবেন কোন ছবিটা চলবে, কোন ছবিটা চলবে না। ওই শিক্ষা আপনাকে ধরবে।”

দর্শকের রুচির বিষয়টি তাঁর কথায় বারবার ফিরে আসে। চলচ্চিত্র তাঁর কাছে শুধু বিনোদন নয়। “বাংলাদেশের চলচ্চিত্র মানুষের শিক্ষা। এটা একটা পাঠ্যপুস্তক, একটা বই—বইটাই পর্দায় যায়। শরৎচন্দ্রের গল্প, রবীন্দ্রনাথের গল্প—এমন অনেক কিছু বানাইয়া-টানাইয়া পর্দায় যায়। কাজেই এটা বিনোদন না। চলচ্চিত্র কখনো শুধু বিনোদন না, এটা শিক্ষা।”

এই কারণেই বর্তমান সময়ের চলচ্চিত্র নিয়ে তিনি হতাশ হলেও পুরোপুরি আশাহীন নন। তাঁর সোনারগাঁওয়ের নিজস্ব ফিল্ম স্টুডিও রয়েছে। সেখানে শুটিং ফ্লোর, ক্যামেরা ও চলচ্চিত্র নির্মাণের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আছে। কয়েক বছর আগে একসঙ্গে ২৫টি চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

“এখন তো ছবি নাই। ছবি থাকলে আমার হাত দিয়া একটা না, অনেক ছবি হইতো। আমার একটা স্টুডিও আছে, ফিল্মের—এফডিসির মতো। সোনারগাঁওয়ে, তাজমহলের পাশে। ২৫টা ছবি দিয়া মহরত করছিলাম।”

কিন্তু সমস্যাটা কোথায়? তাঁর উত্তর খুব সরল—টাকা, আর তার চেয়েও বড় সমস্যা প্রেক্ষাগৃহের সংকট।

“ছবি বানাইতে অনেক টাকা লাগে। টাকা। তো এটা বানানোর পরে হলে যে চলবে, এ হল নাই। ছবি বানাইয়া হলে চালাবো কোথায়? হল তো নাই। এইজন্য ছবি এখন হচ্ছে না।”

সম্পর্কিত

Germany’s Ambassador to Bangladesh Calls on State Minister for Foreign Affairs

ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাচিং প্রুর বৈঠক, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা

একসময় যেসব ১ হাজার ৪০০ সিনেমা হল ছিল, তার অনেকগুলো এখন বন্ধ। মালিকেরা অন্য ব্যবসায় চলে গেছেন। ফলে নির্মাণের আগে থেকেই প্রশ্ন দাঁড়িয়ে যায়—ছবিটি দেখবে কারা, কোথায় দেখবে?

তবু চলচ্চিত্রকে তিনি ছাড়েননি। ‘ভালোবাসার তাজমহল’-এর মতো চলচ্চিত্র প্রযোজনার কথা বলেন। সর্বশেষ ‘ক্ষুদিরামের ফাঁসি’ নির্মাণের কথাও উল্লেখ করেন। নতুন মাধ্যম হিসেবে ইউটিউবের দর্শক প্রতিক্রিয়াও তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর নিজের ধারণা, পরিবেশ তৈরি হলে আবার চলচ্চিত্রের সেই পুরোনো জৌলুস ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

চলচ্চিত্রের বাইরে তাঁর আরেকটি বড় পরিচয়—পর্যটন। কাকরাইলে রাজমণি ঈশা খাঁ হোটেল দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা করছেন। আন্তর্জাতিক মানের সেবা তুলনামূলক কম খরচে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানান তিনি। তবে করোনা মহামারির পর বিদেশি পর্যটক কমে যাওয়ায় ব্যবসায় তার প্রভাব পড়েছে।

পুরোনো সিনেমা হলের জায়গায় ‘গিটার’ নামে নতুন একটি প্রকল্পের কথাও জানান তিনি। সেখানে হোটেল, মার্কেট ও সিনেপ্লেক্স থাকবে। ভবিষ্যতে নিজের প্রযোজনা ও পরিচালনার চলচ্চিত্রও সেখানে দেখাতে চান। নিজের এলাকায় ‘হারিকেন’ নামের আরও একটি আন্তর্জাতিক মানের হোটেল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

তবে সবকিছুর মধ্যে আলাদা আবেগ জড়িয়ে আছে সোনারগাঁওয়ের বাংলার তাজমহলকে ঘিরে। আগ্রায় তাজমহল দেখে ১৯৮০ সালে তাঁর মাথায় আসে, বাংলাদেশেও এমন কিছু তৈরি করা যায়। শুধু নান্দনিকতা নয়, এর পেছনে ছিল তাঁর ব্যক্তিগত এক অনুভূতি।

“১৯৮০ সালে তাজমহল দেখতে গেলাম। বসে আছি, চিন্তা করলাম—এটা যে বানিয়েছে, সে তো এখানে ছিল একদিন। ওই লোক মরে গেছে। নিজের কবর নিজে বানায়ে গেছে। তো আমিও এমন কিছু করি, যে আমি মরার পরে আমার কবরটা তাজমহলের ভিতরে হয়।”

সঙ্গিনীর প্রতি ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে তাঁর বক্তব্য, “আমার জীবনসঙ্গিনীর প্রতি ভালোবাসা, প্রেম তো রয়েছেই। এটা তো চিরন্তন ব্যাপার। তাজমহলটি নির্মাণ করেছি মৃত্যুর পর আমাদের কবরটা যেন সেখানে হয়। সে জন্য জায়গা নির্ধারণ করে রেখেছি।”

আজ সেই স্থাপনাও একটি ব্যবসায়িক ও পর্যটনকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসে। তাঁর ভাষায়, “মানুষে দেখতেছে সমানে। ডেইলি প্রায় অনেক লোকে দেখে। অনেক দূর-দূরান্ত থেকে লোকে দেখতে আসে।”

ব্যবসা নিয়ে তাঁর দর্শনও আলাদা। নিজের সাফল্যের বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে বারবার ফিরে যান বড় বোনের স্বামীর কাছে। প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী সেই মানুষটির কাছ থেকেই ছোটবেলা থেকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস, “প্রত্যেক মানুষকে সৃষ্টিকর্তা নির্দিষ্ট কিছু কাজের জন্য পৃথিবীতে পাঠান।” নিজেকে তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যের উপযোগী মনে করেন এবং সেই জায়গাতেই নিজের সামর্থ্য কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন।

তরুণদের নিয়েও তাঁর চিন্তা বাস্তবমুখী। তাঁর মতে, শুধু ডিগ্রি নিলেই হবে না; দক্ষতা অর্জন করতে হবে। বিদেশে গিয়ে কম মজুরির অদক্ষ শ্রমিক হিসেবে কাজ করার বদলে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি দক্ষতার মাধ্যমে নিজেদের মূল্য বাড়াতে হবে। এইচএসসি পর্যায়ে ছেলে-মেয়ে সবার জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের কথাও বলেন তিনি। তাঁর মতে, এর উদ্দেশ্য যুদ্ধ শেখানো নয়; বরং শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও বাস্তব জীবনের প্রস্তুতি।

নিজের পরবর্তী প্রজন্ম নিয়েও তিনি সচেতন। দুই সন্তানের পড়াশোনা বিদেশে হয়েছে, ছেলে এখন ব্যবসায় যুক্ত। নাতিকেও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করার কথা বলেন। কারণ তাঁর কাছে প্রতিষ্ঠান তৈরি করার চেয়ে সেটিকে সামনের প্রজন্মের হাতে নিরাপদে তুলে দেওয়া কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

দীর্ঘ এই পথচলার দিকে তাকালে আহসান উল্লাহ মনির জীবনে যেন কয়েকটি আলাদা নদী এসে এক জায়গায় মিশেছে—চলচ্চিত্র, রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ, ব্যবসা, পর্যটন, বিনোদন আর ব্যক্তিগত জীবনদর্শন। কখনো তিনি পর্দার আড়ালের অর্থদাতা, কখনো সিনেমা হল নির্মাতা, কখনো প্রযোজক, কখনো উদ্যোক্তা। কিন্তু প্রতিটি ভূমিকাতেই তাঁর একটি কথা ফিরে আসে—কাজ থামিয়ে রাখা যাবে না।

তাই শেষ পর্যন্ত তাঁর নিজের একটি বাক্যই হয়তো তাঁকে সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করে—“আমি এখনও চুপচাপ বসে নেই।”

এই না-বসা মানুষটির কাছে বয়সের চেয়ে বড় হলো আগ্রহ, অতীতের চেয়ে বড় হলো অভিজ্ঞতা, আর স্মৃতির চেয়ে বড় হলো সামনে এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা। তিনি বিশ্বাস করেন, চলচ্চিত্র আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। প্রেক্ষাগৃহ আবার মানুষের মিলনস্থল হতে পারে। তবে তার জন্য নির্মাতাকে দর্শকের কাছে ফিরতে হবে, দর্শকের রুচি বুঝতে হবে, গল্পকে শক্ত করতে হবে, আর সিনেমাকে আবার সিনেমা হিসেবেই ভাবতে হবে।

আহসান উল্লাহ মনির কথার ভেতর তাই একসঙ্গে শোনা যায় পুরোনো দিনের সোনালি স্মৃতি এবং আগামী দিনের একগুচ্ছ পরিকল্পনা। তাঁর পোশাকের উজ্জ্বলতা যেমন চোখে পড়ে, তেমনই তাঁর ভাবনার মধ্যেও এখনো রঙ আছে। সেই রঙের নাম—চলচ্চিত্র, কাজ এবং নতুন কিছু করার অদম্য ইচ্ছা।

শেয়ারTweetPin

সম্পর্কিতপোস্ট

৪ হাজার ৭০০ ক্যাফের ব্র্যান্ড ক্যাফে আমাজন বাংলাদেশে
অর্থনীতি

৪ হাজার ৭০০ ক্যাফের ব্র্যান্ড ক্যাফে আমাজন বাংলাদেশে

৭ আগস্ট ২০২৬
রাজনীতি যেন চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্বে বাধা না হয়: প্রধানমন্ত্রী
জাতীয়

রাজনীতি যেন চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্বে বাধা না হয়: প্রধানমন্ত্রী

৮ আগস্ট ২০২৬

সর্বশেষ

Germany’s Ambassador to Bangladesh Calls on State Minister for Foreign Affairs

Germany’s Ambassador to Bangladesh Calls on State Minister for Foreign Affairs

- ইউএসএ বাংলা ডেস্ক
৭ অক্টোবর ২০২৬
0

0

ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাচিং প্রুর বৈঠক, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা

ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাচিং প্রুর বৈঠক, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা

- ইউএসএ বাংলা ডেস্ক
৭ অক্টোবর ২০২৬
0

0

অনুমাননির্ভর সংবাদে ক্ষোভ প্রকাশ কাজী জেসিনের

অনুমাননির্ভর সংবাদে ক্ষোভ প্রকাশ কাজী জেসিনের

- ইউএসএ বাংলা ডেস্ক
৭ অক্টোবর ২০২৬
0

0

এককভাবে দেশের ‘নাম্বার ওয়ান’ বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া আমাদের মূল লক্ষ্য: অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী

এককভাবে দেশের ‘নাম্বার ওয়ান’ বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া আমাদের মূল লক্ষ্য: অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী

- ইউএসএ বাংলা ডেস্ক
৭ অক্টোবর ২০২৬
0

0

usa bangla logoo

সঠিক সংবাদ সবার আগে পেতে ইউ এস এ বাংলার সাথেই থাকুন!
ইউ এস এ বাংলা সারা বিশ্বে বাংলার মুখ!

Follow us on social media:

ইউএসএ বাংলা নিউজ
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : জালাল আহমেদ।
সম্পাদক : রাজু আলীম 

  • আমাদের সম্পর্কে
  • বিজ্ঞাপন
  • লিখতে চাইলে
  • যোগাযোগ

বিভাগ

  • English News
  • অন্যান্য
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • চাকরি
  • জাতীয়
  • নিউইয়র্ক
  • প্রযুক্তি
  • বাণিজ্য
  • বাংলাদেশ
  • বিনোদন
  • বিশ্ব
  • ভারত
  • মতামত
  • যুক্তরাষ্ট্র
  • রাজনীতি
  • শিক্ষা
  • সাফল্য
  • সারাদেশ
  • সাহিত্য
  • সুস্বাস্থ্য

সর্বশেষ

Germany’s Ambassador to Bangladesh Calls on State Minister for Foreign Affairs

Germany’s Ambassador to Bangladesh Calls on State Minister for Foreign Affairs

৭ অক্টোবর ২০২৬
ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাচিং প্রুর বৈঠক, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা

ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাচিং প্রুর বৈঠক, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা

৭ অক্টোবর ২০২৬
  • আমাদের সম্পর্কে
  • বিজ্ঞাপন
  • লিখতে চাইলে
  • যোগাযোগ

© 2026 JNews - Premium WordPress news & magazine theme by Jegtheme.

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • হোম
  • বিশ্ব
  • বাংলাদেশ
  • যুক্তরাষ্ট্র
  • নিউইয়র্ক
  • বিশ্ব
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • খেলা
  • চাকরি
  • মতামত
  • অন্যান্য

© 2026 JNews - Premium WordPress news & magazine theme by Jegtheme.