মাশরুর আরেফিন
বয়স, কিম্বা কে জানে বয়স নাকি বয়েস, সাতান্ন হলো—এইটা ভাল কথা। কবিতা দিয়েই প্রকাশিত হোক এই বয়সের/বয়েসের ভার, যার ওজন প্রতিদিন কয়েক শত ঠেলাগাড়ি খালি হাতে ঠেলবার মতো। কারণ ভবিষ্যৎ—অন্ধকার; আর শৈশব—আলোকিত!
—–
দ্যাখো না আমি শৈশবে ‘এই যে আমি’ বলে
মাসরুর আরেফিন
এই নতুন যুগে ‘প্রথম আলো‘ তাদের অপ-এড পেজে
বলে দিল: ‘সাম্প্রদায়িকতা আত্মঘাতী কিছু‘।
যেন তারা কতো চিন্তিত পাঠকের উদ্বেগ
ও চাহিদাগুলো নিয়ে!
আহা, তাই যদি হতো—
এমন যে, তুমি মারা গেলে সেটা আমারই মারা যাওয়া!
যদি সত্যি হতো এইসব বড় বড় কথা,
তাহলে পৃথিবীতে সেই কবে
একজন সতেরোজনকে মেরে মারা যেত
সতেরোবার আত্মঘাতী নিজে!
ঘটনা কী বুঝতে তাই ফোন করা গেল স্বয়ং বিধাতাকে,
সকল ট্যাবু ভেঙে।
কিন্তু ওইপাশে হ্যালো বলল অন্য এক লোকে,
চিমনির পাহারাদার জাতীয় কেউ হবে।
সে আমাকে মোটামুটি দৈবেরই স্বরে বলল এই কথা:
‘চিমনির ধোঁয়াখাওয়া উত্থানশূন্য মানবেরা তোরা,
বই ধরে চুমু খেতে তোদের যে কতো ভাল লাগে,
যেহেতু পবিত্র ওরা—বই!‘
যদিও ভেতরে খুন-খারাবি আছে বেশ লেখা!
যেখানে নাম বললেই বোঝা যাচ্ছে
হিন্দু কে আর মুসলমান কারা—
সঙ্গে মারমা ও খ্রিস্টানও আছে…
পুলিশও দেখি আছে, ওরে বাবা!
যেমন নদীর উৎসমুখে থেকে থাকে।
সেই মুখ সামান্য এডজাস্ট করো যদি,
নদী সব অসামান্য পথে ভিন্নমুখে যাবে—চিরকালই!
(এইটাই কি গোপন করা হল?
এই আদেশই কি পোড়ানো হল চিমনিতে?)
অতএব তাহলে সুতরাং ওই তবে শেষ।…
ওই আমি বাস্টার্ড ফাকারের
ব্লিডিং ব্লাস্টেড উইন্ডপাইপ ফাটিয়ে দিতে উদ্যত,
যে কিনা গণ্ডগোল-সর্বস্ব মানুষের কথা বলে।
উফ্, মানুষ নিজেই তো রাজা কুকুরের কাছে,
কোকিলেরও কাছে—
আর তৎক্ষণাৎ গান, তৎক্ষণাৎ ব্যবসারও কথা,
তৎক্ষণাৎ আইন বিশেষজ্ঞ যারা আছে
তারা আপিল করে দিল, আহা…পুনর্বার আহা!
তাই পুনর্বার ঘুম ভাঙ্গল খুনের কথা শুনে,
ঘুম ভাঙ্গল হিন্দু ও মুসলিমের নালিশ শুনে শুনে।
এবং খ্রিস্টান গোমেজ বললেন:
‘ইমপ্রুভমেন্ট অবশ্যই কিছু আছে, ব্যাটা!
রাজা নিজে ব্লাডপ্রেশার ও অন্য প্রেশারে আছেন ভালমতোই একা।‘
(কবিতায় ‘নিঃসঙ্গ’ থাকা যাকে বলে!)
—হাহ্ কী তুচ্ছ জীবন হয়ে গেছে এ সমস্ত চাপে!
তাই আমি বৃহত্তর পৃথিবীর দিকে (ইউনিভার্স বলা ভাল)
চোখ রেখে বাগানে এসে বসি,
যখন মানুষেরা পুলিশের তাড়া খেয়ে
বসতে পারে না ফুটপাতেও এসে।
…এই এই এই হিসাবই চিরকালই,
চিরকালই মন বলে এই দাঙ্গা দারিদ্র্যের ফলই…
ব্রাদার, সেটাও এক গা বাঁচানো মার্ক্সিস্ট কথা।
হলে ক্ষতি আছে?
কারণ, ততক্ষণে ইথাকার রাজা (নাম মাসরুর আরেফিন তাঁর)
সকালেই বেরিয়ে পড়েছেন চাকরি রক্ষার খোঁজে।
আর ততক্ষণে আকাশের গায়ে ‘স্বর্গবৃক্ষ‘ নামে গাছে
কতো রূপবন্ত ফুল ফুটেছে লক্ষ কোটি ঝামেলারও মাঝে
‘ফুল’ বোলো না, ‘পুষ্প’ বলো ওকে—
অন্য কবিতায় বলেছি যে,
‘ফুল’ বললে বোকা বোকা লাগে!
আহা! ততক্ষণে সারা দেশ ভরে গেছে
সাতরঙা হীরামন পাখিদের ঝাঁকে,
যারা একসঙ্গে দেখতে বেশ শামিয়ানারই মতো,
তবে আলাদা করে দ্যাখো যদি তারা অতি ছোট-ছোট
কিন্তু গাঢ় বটে…
অতএব নিঃসন্দেহ থাকো যে আমরা আসলেই ছোট,
আমরা ক্ষুদ্র বালুকণা—
দ্যাখো না আমি শৈশবে
‘এই যে আমি, এই যে আমি’ বলে
টমেটো ও মরিচের ছায়া-ছায়া
দুর্নিবীক্ষ্য বাগান পার হয়ে
আজও দৌড়ে যাচ্ছি আমি সেই একই বাবা-মায়ের কাছে,
যারা মুসলিম হয়ে
এইমাত্র মন্দির থেকে পুজো দেখে এইমাত্র ঘরে…
এক নজরে মাসরুর আরেফিন…
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()