১৯৯১ সালে যাত্রা শুরু করা ইউনাইটেড রিয়েল এস্টেটের কার্যক্রম এখন আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের গণ্ডি পেরিয়ে টাউনশিপ, ভূমি উন্নয়ন, প্রকৌশল ও বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণে বিস্তৃত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকার মাদানী এভিনিউয়ে প্রায় ৩৫০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে উঠছে ইউনাইটেড সিটি। আবাসনের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বাণিজ্য ও নাগরিক সুবিধা সমন্বিত করার পরিকল্পনা রয়েছে এ টাউনশিপে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্যানুযায়ী, আবাসিক, বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৯০টির বেশি প্রকল্পে কাজ করেছে ইউনাইটেড রিয়েল এস্টেট। এসব প্রকল্পে প্রায় এক কোটি বর্গফুট উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে আরো প্রায় ২০ লাখ বর্গফুট নির্মাণ ও উন্নয়নাধীন রয়েছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ বর্গফুট উন্নয়ন।
আবাসন উন্নয়নের এ অভিজ্ঞতাকে বৃহত্তর পরিসরে কাজে লাগানোর অন্যতম উদাহরণ ইউনাইটেড সিটি। এখানে আবাসিক প্লট ও কনডোমিনিয়ামের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, হাসপাতাল, বাণিজ্যিক এলাকা ও সামাজিক অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, স্যার জন উইলসন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল এবং ইউনাইটেড কলেজ অব নার্সিং এ পরিকল্পনার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোর অংশ। একই এলাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি আবাসনের সঙ্গে শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার সংযোগ তৈরি করছে।
ইউনাইটেড সিটির মহাপরিকল্পনায় রয়েছে ১৩৬টি সড়ক ও ২৭টি পার্ক। আবাসিক প্লটের জন্য প্রায় ৭৫ একর, বাণিজ্যিক প্লটের জন্য ১১ একর এবং কনডোমিনিয়াম উন্নয়নের জন্য ৫০ একর জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়ও পরিকল্পনায় রয়েছে।
ইউনাইটেড রিয়েল এস্টেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান ভূঁইয়ার ভাষায়, মানুষ শুধু একটি ফ্লোর প্ল্যানে বাস করে না, তারা একটি কমিউনিটিতে বাস করে। ভালো স্কুল, কাছাকাছি স্বাস্থ্যসেবা, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও পানি, সবুজ পার্ক এবং নিরাপদ যাতায়াত একটি বসবাসযোগ্য জনপদের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। একটি ভবনের নির্মাণ শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট সময় থাকলেও একটি কমিউনিটির বিকাশ চলমান থাকে।
আবাসিক উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে গুলশান সেন্টার পয়েন্ট, ধানমন্ডি সেন্টার পয়েন্ট, ইউনিসেন্ট্রাল ও ইউনাইটেড হাউজ। খুচরা বাণিজ্য ও বিনোদনকেন্দ্রিক প্রকল্প সেন্টারপয়েন্টের আয়তন প্রায় ১০ লাখ বর্গফুট। বিমানবন্দর ও ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথের কাছাকাছি অবস্থিত এ প্রকল্পে বাণিজ্যিক স্থাপনার পাশাপাশি কেনাকাটা, খাবার ও অবসর কাটানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
ভবন নির্মাণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন দক্ষতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। গুলশান সেন্টার পয়েন্টে সূর্যের তাপ নিয়ন্ত্রণে লো-ই ও প্রতিফলক কাচ ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে সৌরবিদ্যুৎ ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোয় পয়োবর্জ্য পরিশোধনাগার ও পানি শোধনাগার অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আবাসন ও বাণিজ্যিক স্থাপনার বাইরেও স্থলবন্দর, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং শিল্প অবকাঠামো নির্মাণে কাজ করেছে ইউনাইটেড রিয়েল এস্টেট। টেকনাফ স্থলবন্দরে ভূমি উন্নয়ন, গুদাম, সংযোগ সড়ক এবং পণ্য ও যাত্রী জেটি নির্মাণে প্রতিষ্ঠানটি যুক্ত ছিল। ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের জন্য ৮৮ মেগাওয়াট এবং চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের জন্য ৭২ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণেও ভূমিকা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
তবে বৃহৎ টাউনশিপ ও অবকাঠামো উন্নয়নের সাফল্য শুধু নির্মাণের পরিমাণ দিয়ে নির্ধারিত হয় না। সেবা ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবেশগত বিবেচনা এবং আশপাশের সড়ক ও গণপরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আবাসনের ক্রয়ক্ষমতা এবং পানি, বিদ্যুৎ ও নিকাশির মতো নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখতে হয়।
প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ বর্গফুটের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা ইউনাইটেড রিয়েল এস্টেটের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। এ সম্ভাবনাকে টেকসই উন্নয়নে রূপ দিতে নির্মাণের মানের পাশাপাশি কার্যকর নগর পরিকল্পনা, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি সেবা ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।![]()