জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে নানা সমীকরণ। এরই মাঝে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন গুঞ্জন— জাতিসংঘের এই শীর্ষ পদে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কূটনীতিক লানা নুসেইবেহকে সমর্থন দেওয়ার কথা গভীরভাবে ভাবছে যুক্তরাজ্য। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে যুক্তরাজ্যের এই সমর্থন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনও না এলেও, ভেতরের খবর হলো— আমিরাতের এই প্রার্থীর দিকেই বেশি ঝুঁকছে ব্রিটিশ সরকার।
তবে লানা নুসেইবেহর প্রার্থিতা খুব একটা বিতর্কমুক্ত নয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁকে নিয়ে বেশ সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে সুদানের চলমান গৃহযুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূমিকা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এই বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলেছে। সুদানের কুখ্যাত আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) আমিরাত মদদ দিচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমনকি জাতিসংঘের তদন্তকারীরাও জানিয়েছেন, এই বাহিনীর চালানো নারকীয় হত্যাকাণ্ডে ‘গণহত্যার’ সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যদিও সংযুক্ত আরব আমিরাত বরাবরই এসব অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করে আসছে।
এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বেশ সতর্ক। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, বর্তমান বিশ্বের নানা জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য জাতিসংঘকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজে বের করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তারা প্রার্থীদের যোগ্যতার ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে এবং নীতিগত কারণে এখনই প্রকাশ্যে কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর বিষয়ে মন্তব্য করতে নারাজ।
তবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা এই সম্ভাব্য সমর্থনের পেছনে ভিন্ন এক সমীকরণ দেখতে পাচ্ছেন। অনেকেই মনে করছেন, আমিরাতের সাথে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা মেরামতের জন্যই এটি একটি প্রচ্ছন্ন কূটনৈতিক কৌশল। এই দূরত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বিখ্যাত ফুটবল ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি। আমিরাতের রাজপরিবারের প্রভাবশালী সদস্য ও দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মালিকানাধীন এই ক্লাবের বিরুদ্ধে সম্প্রতি ১১৪টি আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ এনেছে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগটি বেশ গুরুতর বলা হচ্ছে, প্রায় ৮৩ কোটি পাউন্ড বা ১১০ কোটি ডলারের বেশি অবৈধ অর্থায়নের তথ্য গোপন করেছে ক্লাবটি। ম্যানচেস্টার সিটি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করলেও, প্রিমিয়ার লিগের এমন পদক্ষেপে চরম ক্ষুব্ধ আমিরাত। এমনকি এর জেরে যুক্তরাজ্য থেকে তাদের বিশাল বিনিয়োগ বাতিলেরও প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন আমিরাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা। ধারণা করা হচ্ছে, এই উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিয়ে আবুধাবির সাথে সম্পর্ক পুনরায় স্বাভাবিক করতেই লানা নুসেইবেহকে জাতিসংঘের শীর্ষ পদে বসানোর বিষয়টিকে তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে যুক্তরাজ্য।