ফিফার মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা: সঞ্জয়ের বিশ্বজয়ের গল্প
তানভীর তারেক
এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে আনন্দের এবং বাংলাদেশি হিসেবে কালচারাল অঙ্গনে সবচেয়ে বড় গর্বের গল্প তৈরি করেছে সঞ্জয় নামের দুরন্ত ছেলেটি।
বাংলাদেশে জন্ম নেয়া যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা এই ছেলেটির নিবাস সানহোজে শহরে। আমি এখন যেখানে আছি তার থেকে কয়েক মিনিটের ড্রাইভের দুরত্ব! এটুকু জেনেই যেন কী বিরাট আনন্দ বোধ হচ্ছে আমার!
ঠিক তখন রুবনা ভাবী বললো- ‘ওর বাবা-মা আমাদের পারিবারিক বন্ধু। সঞ্জয় পিচ্চি থেকে আমাকে নাচের গুরু বলে। ওর সাথে মিট করবেন আপনি!![]()
রাজ ভাই বললো তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানে ঢোল বাদক হিসেবে পিচ্চি ছেলেটা দিনভর মজা করেছে।
সঞ্জয়ের ইন্টারভিউ ফক্স, সিএনএন থেকে শুরু করে লস্কর আল মামুন সময় টিভির জন্য করেছে। সবকটিতেই ছেলেটি কী দারুণ করে তার ক্যারিয়ারের সাফল্যের পেছনে তার মা আর বাংলাদেশের নাম বারবার বলে! এসব পারিবারিক শিক্ষা। খুব ইন্সপায়ার করে। বারবার প্রতিটি ইন্টারভিউতে বলেছে সে!
টরন্টো’তে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইভেন্ট ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপের উদ্বোধনী গান করেছে ছেলেটি! ভাবলেও গুসবাম হয়!
ক্যারিয়ারে হয়ত এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি বা সাফল্য আমাদের বাংলাদেশের গানের জগতে আর কারো নেই! এখন অব্দি।![]()
এত বিরাট আনন্দের উদযাপন রাষ্ট্রীয়ভাবে হওয়াটা জরুরী। আমি ব্যক্তিগত ভাবে সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ে কথা বললাম। অনুরোধ করলাম মন্ত্রী মহোদয়কে। ইভেন্টের ব্যস্ততা শেষে সঞ্জয়কে নিয়ে যেন এক বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা দেয়।
এর আগে নাফিস বিন জাফর যখন তিন তিনটে অস্কার জয় করার পর বাংলাদেশে গিয়েছিলেন। আমি ইন্টারভিউ করেছিলাম। নাফিস আমাদের কিংবদন্তি মুস্তাফা মনোয়ারের নাতি ।
তখন শিল্পকলা একাডেমিকে বলেছিলাম, তাকে প্লিজ একটা রাষ্ট্রীয় স্বংবর্ধনা দিন । নাফিস তা ডিজার্ভ করে । হয়নি। সেটা সেসময়ের প্রশাসন পাত্তা দেয়নি। মন খারাপ হয়েছিল খুব।![]()
সঞ্জয়কে রাষ্ট্রীয় সম্মান দেবার বিষয়টা এবারের সরকার প্রশাসন শুনবে কী না- সেটাও জানি না। দেখা যাক! এই সঞ্জয়- নাফিজরাই বাংলাদেশের রিয়েল গুডউইল এম্বাসেডর।
এগুলো ছোটখাটো কোনো ঘটনা না। প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই নাকি এখন শিল্প সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে দেশে। খুবই আনন্দের খবর এটি। কিন্তু সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখায়- সঞ্জয়, নাফিসরা যে পরিমান গর্ব নিয়ে আসে। বাংলাদেশীদের যেভাবে গর্বিত করে। তাদের রাষ্ট্রীয় উদযাপনটা জরুরি। তাহলে আরো অনেক সঞ্জয় জন্মাবে!
একটাবার ভাবুন। সঞ্জয় টরন্টো অনুষ্ঠানে যেভাবে প্ল্যান করে রয়েল বেঙ্গল টাইগার আর বাংলাদেশি পতাকা আঁকিয়ে নিয়ে স্টেজে উঠেছে। এটা কিন্তু ওকে কোনো ইভেন্ট কোম্পানি বলে দেয়নি। সঞ্জয় নিজে কাজটা করেছে। এটাই দেশপ্রেম! দেশপ্রেম শুধু বাংলাদেশের ভেতরে হা হুতাশে প্রকাশ পায়না।
এভাবেও তীব্র দেশপ্রেম প্রকাশ করা যায়।
সঞ্জয় তার ড্যান্সস্টেপ এ শো করেছে বাংলাদেশকে। সারাবিশ্ব এটা নিয়ে আলাপ করছে। এটি বিরাট ন্যাশনাল ডেডিকেশন ছাড়া সম্ভব না।
আমাদের দেশের রতœ এরা। এদের রাষ্ট্র ঠিক ঠাক সময়মতো লালন না করলে ওরা ঠিকই নানান আন্তর্জাতিক কাজ করে যাবে ঠিকই। পুরস্কারও ঘরে তুলবে প্রতিনিয়ত। কিন্তু মনের ভেতরে দেশের প্রতি একধরনের আফসোস-মায়া থেকে যাবে।
এবারের বিশ্বকাপের প্রিয় ব্রাজিল বিশ্বকাপ না জিতলেও যেন আমার কাছে খুব একটা কষ্টের হবে না। কারন সঞ্জয় আমাদের বাংলাদেশিদের মনের ঘরে ঘরে ফিফা ট্রফি পৌঁছে দিয়েছে।
ওয়ার্ল্ড কাপ শুরুর আগেই।
লাভিউ সঞ্জয়। খুব জলদিই দেখা হচ্ছে তোমার সাথে। যদি সবকিছু ঠিক ঠাক থাকে। বুক চিতিয়ে তোমাকে একটু ছুঁয়ে একটা ছবি তুলবো। আর আড্ডা দিবো। যেমনটা দিয়েছিলাম নাফিস বিন জাফরের সাথে ..
তাতাপলোব্ধি
মাঝরাত।
ব্রাজিল-মরক্কো ডে
সানফ্রানসিসকো। যুক্তরাষ্ট্র