চামড়া শিল্পে ২ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম বাংলাদেশ ব্যাংকের
রপ্তানি বাড়ানো, পরিবেশগত মানদণ্ড নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক বাজারে দেশের চামড়া শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে ২ হাজার কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন স্কিম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে গঠিত এ স্কিমের মাধ্যমে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য শিল্পের আধুনিকায়ন, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অর্থায়ন করা হবে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়, স্কিমটির লক্ষ্য দেশের চামড়া শিল্পকে টেকসই, পরিবেশবান্ধব এবং আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা।
নতুন এ স্কিমের আওতায় কারখানা নির্মাণ ও সম্প্রসারণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন, ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি), স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি), ডাম্পিং ইয়ার্ড এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অবকাঠামো নির্মাণে ঋণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি) সনদ অর্জনের ব্যয়, বিদ্যমান ট্যানারির আধুনিকায়ন এবং চামড়া শিল্পে ব্যবহৃত রাসায়নিক ও অন্যান্য সহায়ক উপকরণের দেশীয় উৎপাদনেও এ তহবিল থেকে অর্থায়নের সুযোগ থাকবে।![]()
স্কিমের আওতায় উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে পারবেন। অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক ৪ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা দেবে। রিভলভিং ভিত্তিতে তিন বছর মেয়াদে তহবিলটি পরিচালিত হবে।
নতুন চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনে সর্বোচ্চ সাত বছর মেয়াদি ঋণ দেওয়া হবে, যার মধ্যে দুই বছর গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। বিদ্যমান কারখানা আধুনিকায়নের জন্য সর্বোচ্চ চার বছর মেয়াদি ঋণ দেওয়া হবে, যেখানে ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। কার্যকর মূলধনের ঋণের মেয়াদ হবে এক বছর, যা প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত নবায়ন করা যাবে।
স্কিমের আওতায় নতুন চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার জন্য সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা, নতুন চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন অবকাঠামোর জন্য ২০ কোটি টাকা, বিদ্যমান স্থাপনা আধুনিকায়নের জন্য ১০ কোটি টাকা এবং সহায়ক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যকর মূলধনের জন্য সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে।
তবে এ অর্থায়নের সঙ্গে কয়েকটি শর্তও যুক্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অর্থায়ন পাওয়া চামড়া প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুই বছরের মধ্যে এলডব্লিউজি সনদ অর্জন করতে হবে। একই সময়ের মধ্যে তাদের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ১০ শতাংশ সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে পূরণ করতে হবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বাংলাদেশের সব তফসিলি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে এ স্কিমে অংশ নিতে পারবে।
তবে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী খেলাপি ঋণগ্রহীতারা এ তহবিলের সুবিধা পাবেন না। একই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) বা গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (জিটিএফ) থেকে ইতোমধ্যে সহায়তা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নতুন এ স্কিমের আওতায় অর্থায়ন দেওয়া হবে না।