সরকারের অনুকূলে নতুন শেয়ার, রূপালী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ৯৪১ কোটি টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারের শেয়ার মানি ডিপোজিটের বিপরীতে ৪৫ কোটি ৩৩ লাখ ৩০ হাজার ২৫৩টি নতুন সাধারণ শেয়ার ইস্যু করেছে রূপালী ব্যাংক পিএলসি। এসব শেয়ার সরকারের অনুকূলে জমা হওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৯৪১ কোটি ২৬ লাখ ২৩ হাজার ১৮০ টাকায় উন্নীত হয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখের সম্মতিপত্র এবং ২২ জুলাই অনুষ্ঠিত রূপালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ১ হাজার ২৯২তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ শেয়ার ইস্যু করা হয়। পরে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) সরকারের অর্থ বিভাগের সচিবের বিও হিসাবে নতুন শেয়ারগুলো জমা করে।
সরকারের শেয়ার মানি ডিপোজিট হিসেবে সংরক্ষিত ৬৭৯ কোটি ৯৯ লাখ ৫৩ হাজার ৮০০ টাকার ইকুইটির বিপরীতে প্রতিটি শেয়ার ১৫ টাকা দরে ইস্যু করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ টাকা অভিহিত মূল্য এবং ৫ টাকা শেয়ার প্রিমিয়াম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন শেয়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ফলে ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ৪৮৭ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার ৬৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৯৪১ কোটি ২৬ লাখ ২৩ হাজার ১৮০ টাকায় পৌঁছেছে। বর্তমানে রূপালী ব্যাংকের মোট পরিশোধিত সাধারণ শেয়ারের সংখ্যা ৯৪ কোটি ১২ লাখ ৬২ হাজার ৩১৮টি। বিএসইসির শর্ত অনুযায়ী, সরকারকে ইস্যু করা নতুন শেয়ারগুলো তিন বছর পর্যন্ত লক-ইন থাকবে এবং এ সময়ে সেগুলো হস্তান্তর করা যাবে না।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) শেয়ার মানি ডিপোজিট বিবেচনায় ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট লোকসান হয়েছে ৫ টাকা ৪৮ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৯ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৬ শেষে শেয়ার মানি ডিপোজিট বিবেচনায় শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ৩৭ পয়সা।
সর্বশেষ ২০২৫ হিসাব বছরে রূপালী ব্যাংক শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। ওই বছর সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১৪ পয়সা, যা আগের বছরে ছিল ২৩ পয়সা। এর আগে ২০২৪ সালেও কোনো লভ্যাংশ দেওয়া হয়নি। তবে ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেয় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ।
এদিকে ২০২৪ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিংস লিমিটেড (এনসিআর) রূপালী ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি ঋণমান ‘বিবিবি প্লাস’ এবং স্বল্পমেয়াদি ঋণমান ‘এসটি-৩’ হিসেবে বহাল রেখেছে।